Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ জুন, ২০১৬ ০২:০৫
বাজেট অধিবেশনে বেতারে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’
নিজামুল হক বিপুল

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বেতারে বিএনপির দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি পরিবেশন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষ।

গতকালই ছয়জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর ১০ জনকে বরখাস্তের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়ে। আগামীকাল রবিবার কর্তৃপক্ষ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও বিশদ তদন্তের জন্য। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বেতার সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সূত্র জানায়, উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রথমে কোন সংগীত পরিবেশন হবে, পরে কোনটি পরিবেশন হবে এবং শেষে কোন সংগীতটি পরিবেশন হবে— তা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতা শুরুর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বেতারে পরিবেশন করা হয় বিএনপির দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি। এ নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য এবং সরকারের বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়। কীভাবে এবং কারা এ সংগীত পরিবেশন করেছেন তা নিয়ে সব মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঁইয়া গত রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে বাজেট অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কেন এ সংগীত পরিবেশন করা হলো, তা তদন্তে তত্ক্ষণাৎ প্রকৌশল বিভাগ ও অনুষ্ঠান বিভাগের লোকজন নিয়ে দুটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। প্রথম কমিটি করা হয়েছে অনুষ্ঠান বিভাগের এক্সটার্নেল সার্ভিসের (বহির্বিশ্ব) পরিচালক কামাল আহমেদকে প্রধান করে। দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অন্য সদস্য হচ্ছেন অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক (শিক্ষা) আজহারুল ইসলাম। অন্য কমিটির প্রধান হচ্ছেন বেতারের প্রকৌশল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। কমিটির অন্য সদস্য হচ্ছেন একই বিভাগের প্রকৌশলী আশিকুর রহমান।

বাংলাদেশ বেতারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই কমিটির তাত্ক্ষণিক তদন্ত প্রতিবেদনে অনুষ্ঠান ও প্রকৌশল বিভাগের মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১০ জন হচ্ছেন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা এবং ছয়জন দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিকালেই বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক তত্ক্ষণাৎ দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ছয়জনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। আর প্রথম শ্রেণির ১০ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। আগামীকালই এদের বিরুদ্ধে বরখাস্তের আদেশ জারি করতে পারে তথ্য মন্ত্রণালয়।

বেতারের মহাপরিচালক বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হবে। আগামীকাল রবিবার এ কমিটি গঠন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা বিশদ তদন্ত করবেন। কেন, কী উদ্দেশ্যে এ সংগীত পরিবেশন করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখবেন। বেতারের একটি সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতায় নেই। যার ফলে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ সংগীতটিও সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় না। কিন্তু এত বছর পর হঠাৎ করে কেন এ সংগীতটি পরিবেশন করা হলো? কারা করল? কী উদ্দেশ্যে করল?— এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে ঘুরপাক খাচ্ছে। সংগীতটি যখন বাজানো হয় তখন অনুষ্ঠান ও প্রকৌশল বিভাগের যারা দায়িত্বশীল ছিলেন তারা তা শুনছিলেন। বিশেষ করে অনুষ্ঠান বিভাগের যিনি অনএয়ার করার সময় হেড ফোনে শুনছিলেন তিনি কেন তত্ক্ষণাৎ এটি বন্ধের নির্দেশ দেননি, সে প্রশ্ন উঠেছে।

এসব বিষয়ই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি তদন্ত করে দেখবে। তথ্য সচিব মরতুজ আহমদ গত রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এ ব্যাপারে কোথায় কার গাফিলতি আছে, সে বিষয় খতিয়ে দেখতে বেতারের পক্ষ থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

up-arrow