Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৪ জুন, ২০১৬ ২৩:২৩
দশ বছরে ২৮ হাজার প্রবাসীর লাশ
জুলকার নাইন
দশ বছরে ২৮ হাজার প্রবাসীর লাশ

এক দশকে প্রায় ২৮ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিকে লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে। প্রতি বছরই বাড়ছে বিদেশে বাংলাদেশি লাশের সংখ্যা। জীবনমান উন্নয়নের আশায় প্রবাসে যাওয়া বাংলাদেশিদের বড় অংশের মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে। গবেষকদের মতে, নতুন পরিবেশে প্রচণ্ড কাজের চাপ ও ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের সমতা আনার চিন্তায় করুণ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে হতভাগাদের।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স  কল্যাণ বোর্ডের তথ্যানুসারে, ২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের তিন বিমানবন্দরে মোট ২৭ হাজার ৭১৫ প্রবাসীর লাশ এসেছে। এর মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছে ২৪ হাজার ৯৪১ প্রবাসীর লাশ, চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছে ২ হাজার ৪২৬ লাশ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছে ৩৪৮ প্রবাসীর লাশ। পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশে লাশ ফেরত এসেছে ২০০৫ সালে ১ হাজার ২৪৮, ২০০৬ সালে ১ হাজার ৪০২, ২০০৭ সালে ১ হাজার ৬৭৩, ২০০৮ সালে ২ হাজার ৯৮, ২০০৯ সালে ২ হাজার ৩১৫, ২০১০ সালে ২ হাজার ৫৬০, ২০১১ সালে ২ হাজার ৫৮৫, ২০১২ সালে ২ হাজার ৮৭৮, ২০১৩ সালে ৩ হাজার ৭৬, ২০১৪ সালে ৩ হাজার ৩৩৫, ২০১৫ সালে ৩ হাজার ৩০৭ এবং চলতি ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত লাশ এসেছে ১ হাজার ২৩৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশির। বিমানবন্দরে লাশ গ্রহণের পর বাড়ি নিয়ে যাওয়া ও দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। তবে ঢাকার বিমানবন্দর পর্যন্ত আসার বিমানভাড়া বহন করতে হয়েছে মৃত প্রবাসীর স্বজনদের। ইউরোপিয়ান প্রবাসী বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহনূর খানের মতে, প্রবাসীদের মৃত্যুর পেছনে অনেক করুণ কাহিনী আছে। দৈনিক ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে থাকতে হয় প্রবাসী শ্রমিকদের। অসুস্থ হলে পাওয়া যায় না সঠিক চিকিৎসা। অনেক সময় টাকা বাঁচাতে এক বা একাধিক সপ্তাহের জন্য এক বেলার খাবারও বাদ দেন। চাকরি বদলিয়ে অন্য নতুন কোথাও যোগ দিলে শুরু হয় আরেক অধ্যায়। সারাক্ষণ পালিয়ে থাকতে হয়। ঘুমের মধ্যেও থাকে পুলিশের ভয়।

তিনি বলেন, লাশ ফেরত নিয়ে আসতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় স্বজনদের। থাকে না লাশ ফিরিয়ে নিয়ে আসার টাকাও। কোম্পানি থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়া তো দূরের কথা। পরে উপায় না থাকায় প্রবাসীরা চাঁদা তুলে লাশ দেশে পাঠান। ইউরোপে এ চিত্র আরও ভয়াবহ। এ কারণে প্রবাসীদের এই সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে দেশে লাশ ফেরত আনার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসরাফিল আলম বলেছেন, প্রতিদিনই আট থেকে দশজন প্রবাসীর লাশ আসে। সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রত্যেক প্রবাসীর মৃত্যুর কারণ সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। অধিকাংশ সময়েই হৃদরোগে মারা যান প্রবাসীরা। আসলে তারা যেখানে কাজ করেন, সেখানে সব সময় দুশ্চিন্তা, দেশে থাকা স্বজনদের ভাবনা, এসব কারণেই এমন মৃত্যু।




up-arrow