Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ জুন, ২০১৬ ২৩:২৫
প্রাথমিক সমাপনী নিয়ে বিপাকে ৩০ লাখ শিশু
এক সার্টিফিকেটের জন্য কেন দুই দফা পরীক্ষা
আকতারুজ্জামান রুনকি

শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা ঘোষণা করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর পঞ্চম শ্রেণিতে শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) নেওয়ার পর আগামী বছর থেকে অষ্টম শ্রেণিতে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে দেশের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রায় ৩০ লাখ শিশু শিক্ষার্থী। অভিভাবকরা বলছেন, এ বছর সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর ফের অষ্টম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা দিতে হবে। এক সার্টিফিকেটের জন্য কেন দুই দফায় পরীক্ষা নেওয়া হবে? কোন যুক্তিতে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে পিইসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরও অষ্টম শ্রেণিতে পিইসি পরীক্ষা দিতে হবে?

অভিভাবকরা জানান, পঞ্চম শ্রেণির সমাপনীতে ভালো ফল করাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশেই টিউশনি, কোচিং ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চাপে রয়েছে শিশু শিক্ষার্থীরা। তাই এ বছর থেকেই পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিলের দাবি তুলেছেন তারা। গতকাল অভিভাবকরা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে ও উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। এ বছর পিইসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে অভিভাবকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে গতকালের বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তব্য দেন অভিভাবক মো. ইউনুছ আলী আকন্দ, মলয় সরকার, দিলারা আক্তার, ফেরদৌস খান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালে পিইসি চালু করে সরকার। শিক্ষার মান উন্নয়ন বা পড়াশোনার ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহী করে গড়ে তোলা— কোনো উদ্দেশ্যই সফল করতে পারেনি এ পরীক্ষা। বরং এতে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের ধারা আরও জোরদার হয়েছে। নোট-গাইড বইয়ের ওপরও নির্ভরশীলতা বেড়েছে। তারা বলছেন, পিইসি চালু হওয়ার পর থেকে শিশু শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাচ্ছে না। ফলে শারীরিক-মানসিক বিকাশ হচ্ছে না। শিশুদের আনন্দময় শৈশবও হারিয়ে যাচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণির পিইসি বাতিলের দাবিতে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে মানববন্ধনে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক অংশ নেয়। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু, অভিভাবক মো. সরাফাত হোসেন, তানিয়া সাঈদ, মো. জহিরুল আলম শিমুল প্রমুখ এতে বক্তব্য দেন। এ বছর থেকেই পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে ২০১৭ সাল থেকে অষ্টম শ্রেণিতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তাহলে এ বছর কেন পঞ্চম শ্রেণিতে এ পরীক্ষা নিতে হবে? এক শিক্ষার্থী কতবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দেবে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া উত্তরার একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো. সরফরাজ চৌধুরী শাহেদ বলে, ‘পিইসি দুবার দিতে চাই না। এ বছরই পঞ্চম শ্রেণিতে পিইসি পরীক্ষা বাতিল করা হোক। ’ এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন খালিদ বললেন অন্য কথা। তিনি বলেন, পঞ্চম শ্রেণিতে এই পিইসি পরীক্ষা কোনো সার্টিফিকেট পরীক্ষা নয়। বৃত্তি পেতে ছাত্র-ছাত্রীদের কেন্দ্রীয়ভাবে একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এর ব্যতিক্রম কিছু নয়। এ পরীক্ষার ফল দিয়ে অন্য কোথাও ভর্তিও হওয়া যাবে না। তাই ফল ভালো করতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা না করতে অভিভাবক ও স্কুলগুলোর প্রতি নির্দেশনা দেন সচিব।

up-arrow