Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৫ জুন, ২০১৬ ২৩:৫৭
বাজেটে প্যাকেজ ভ্যাটের নামে শুভঙ্করের ফাঁকি
ফের আন্দোলনের হুমকি ব্যবসায়ীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্যাকেজ ভ্যাটের নামে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তারা ফের সরকারকে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে প্যাকেজ ভ্যাট দ্বিগুণ করার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটে প্যাকেজ ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে বহাল রাখতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে এ নিয়ে আন্দোলনরত ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরাম। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে মূসক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের নেতারা। সংগঠনের সভাপতি আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক ও এফবিসিসিআই পরিচালক আবু মোতালেব। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ, ব্যবসায়ী নেতা বি এম শহিদুল হক, গিয়াসউদ্দিন খোকন, গোলাম মাওলা, মো. আবদুল মালিক, মাসুদ কাদের মনা, হাফেজ হারুন প্রমুখ। আবু মোতালেব বলেন, ‘আমরা আগামী ২০ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করে আন্দোলনে যাব। সব ব্যবসায়ী তখন রাজপথে নামবেন। আমরা ভ্যাট দেব না। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি মানা না হয় ততক্ষণ রাজপথও ছাড়ব না।’ আগামী ৯ জুন ব্যবসায়িক অংশীদারদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় সংলাপ করা হবে বলে জানান তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। ওই সংলাপে যদি প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছা পোষণ না করেন এবং অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে বলা হয়, তাহলে তারা ওই সংলাপ প্রত্যাখ্যান করবেন বলেও জানান। এর পর তারা সারা দেশে ব্যবসায়ীদের অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তবে এর আগে সরকারকে সময় দেওয়ার জন্য ২০ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে বলে জানান আবু মোতালেব। শুভঙ্করের ফাঁকির কথা উল্লেখ করে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, অর্থমন্ত্রী প্যাকেজ ভ্যাট স্থায়ীভাবে আইন না করে এক বছরের জন্য করেছেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের বর্তমানে সর্বনিম্ন ভ্যাট দিতে হয় ১৪ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে ২৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। শর্ত হলো, যাদের টার্নওভার (বার্ষিক বিক্রি) ৩৬ থেকে ৮০  লাখ টাকা, তারা ৩ শতাংশ কর বা ২৮ হাজার টাকা ভ্যাট দেবেন। কিন্তু আগের বাজেটগুলোতে এটা ছিল না। এ ছাড়া বাংলাদেশের বর্তমানে কোনো ব্যবসায়ী নেই যারা বছরে ৮০ লাখ টাকা বিক্রি করে না। ফলে একটা বৈষম্য তৈরি হয়েছে। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদলে বাংলাদেশেও প্যাকেজ ভ্যাটের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, জাতীয় সংসদে পেশ করা বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জাতির কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করেননি। বাজেটে অনেক ফাঁকফোকর রেখেছেন। নতুন ভ্যাট আইন অনুসারে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলেও সেটি দেওয়া যেত। কিন্তু বর্তমান বিধানটি খুবই ভয়াবহ। এ ছাড়া ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট চাপিয়ে দিলেও বড় ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে কর রেয়াত দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, রুটি, বিস্কুট, জুতার ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে টেক্সটাইল শিল্পের কর রেয়াত দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী দেশের স্বার্থপরিপন্থী কাজ করছেন উল্লেখ করে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, অর্থমন্ত্রী দেশের স্বার্থ বাদ দিয়ে কার স্বার্থ দেখেন এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, নতুন ভ্যাট আইনের কিছু সংশোধনী প্রস্তাব বাজেটের আগেই মন্ত্রিপরিষদকে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদও ওই সংশোধনী চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নের জন্য কিছু সুপারিশসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে তারও প্রতিফলন ঘটেনি।




up-arrow