Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ জুন, ২০১৬ ২৩:৫৯
ঈদের আগে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ রাখার নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন ওয়াসার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, রমজানে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করতে না পারলে পানি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চাইতেও বলেছেন তিনি। আর জনগণের ভোগান্তি কমাতে ঈদের অন্তত ১০ দিন আগে শহরগুলোতে রাস্তাঘাটের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং রোজায় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মেয়র, ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদেও নিয়ে গতকাল সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় এসব নির্দেশনা দেন এলজিআরডি মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন। সভার শুরুতে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মেয়র, ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা এবং ওয়াসার কর্মকর্তারা রোজা সামনে রেখে তাদের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যার কথাও মন্ত্রীকে জানান। বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, রংপুরের মেয়র শরফুদ্দিন আহমদ ঝন্টু, বরিশালের মেয়র আহসান হাবীব কামাল এবং অন্যান্য সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) মাহমুদ হোসেন বলেন, ওয়াসা প্রতিদিন ২৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে আসছে। এ কথা শেষ না হতেই মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, ঢাকায় পৌনে দুই কোটি লোকের ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ রোজা রাখেন। প্রতিদিন কোনো না কোনো এলাকায় ওয়াসার পানির স্বল্পতা দেখা দেয়। তিনি বলেন, ‘পানি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিবা, দরজা খুললে মাফ চাবা। এটা করা যাবে তো, না কী? মন্ত্রী হিসেবে আমি নির্দেশ দিচ্ছি।’ মন্ত্রীর বক্তব্যের সময় ওয়াসার ডিএমডি ‘স্যার’, ‘স্যার’ বলে নিজের সম্মতির কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, রমজানে পানি না দিলে আল্লাহও কিন্তু তার বিচার করবেন। তিনি বলেন, ‘রোজার সময় গ্রাহকদের সমস্যা জানতে ওয়াসাকে ২৪ ঘণ্টার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম (নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র) খোলাবেন। কোথাও পানির সমস্যা হলে যেন আপনারা সঙ্গে সঙ্গে জানাতে পারেন। কন্ট্রোল রুম করলে আপনারাও ২৪ ঘণ্টা খবর পাবেন।’ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র খোলার বিষয়টি টেলিভিশনে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সবাইকে জানানোরও নির্দেশ দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। মোশাররফ হোসেন বলেন, রমজানের দিনে যদি পানি না থাকে তাহলে গর্হিত অন্যায়। এটা ওয়াসার গুরুদায়িত্ব। পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পানি নিয়ে ব্যবসা করা ঠিক হবে না। ওয়াসার প্রসঙ্গ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সব কটি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের নির্দেশ দেন, ঈদের অন্তত ১০ দিন আগ থেকে শহরগুলোতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করতে হবে। মানুষের চলাচলে যেন ভোগান্তি না হয়। তিনি বলেন, নির্মাণকাজে ব্যবহূত ইট, রড, সুরকি ও অন্যান্য সামগ্রী রাস্তায় না রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণকাজ এবং বৃষ্টিতে সৃষ্ট রাস্তার গর্ত ও নর্দমা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রী নির্দেশ দিয়ে বলেন, নগরীর রাস্তায় জলাবদ্ধতা নিরসনে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া, রোজায় নাগরিকদের সুপেয় ও ব্যবহারের পানি প্রাপ্তি নিশ্চিত এবং সিটি করপোরেশন নির্ধারিত দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার তদারকিসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত রাখতে হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ঢাকার মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ কারণে রাস্তায় যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলো দ্রুত অপসারণ করতে হবে। নগরীর ডাস্টবিন ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ফুটপাতে জনগণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদেও সিটি করপোরেশন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক বলেন, ইফতারির দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় পচা-বাসি, বিষাক্ত রাসায়নিক ও রংযুক্ত এবং ভেজাল খাদ্য বিক্রি রোধে তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে রোজায় খাদ্যপণ্যে ফরমালিন ঠেকাতে ফলমূলের দোকান, সবজি ও মাছের বাজারেও তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলেন তিনি। এ সময় মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘টাউটারি’ ছাড়া ফরমালিন আর কোনো কাজে লাগে না। ফরমালিনকে রেস্ট্রিকটেড আইটেম করতে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলবেন বলে জানান।

up-arrow