Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ জুন, ২০১৬ ২৩:২১
চন্দ্রিমাতে হবে সংসদ লাইব্রেরি
সরবে জাতীয় সংসদের অবৈধ স্থাপনা, সেপ্টেম্বরে আসছে লুই কানের নকশা
আহমদ সেলিম রেজা
চন্দ্রিমাতে হবে সংসদ লাইব্রেরি

বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশা হাতে পেতে সময় লাগবে আরও দুই মাস। সেপ্টেম্বরেই সরকার এ নকশা হাতে পাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে সংসদ সচিবালয়।

আগামীকালই লুই কানের নকশা যাচাই-বাছাই করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রওনা দিচ্ছেন পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই নকশাগুলোর হার্ড কপি ও সফট কপি সরবরাহের জন্য চূড়ান্ত করা হবে। এরপর নকশাগুলো আনতে স্পিকারের নেতৃত্বে আরেকটি দল যাবে যুক্তরাষ্ট্রে। এর আগে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এ প্রতিনিধি দলের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা বিলম্বিত হয়।

জানা যায়, লুই আই কানের নকশা হাতে পাওয়ার পরই সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত নকশাবহির্ভূত সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সামরিক সরকারের আমলে সংসদ ভবনের উত্তরে ৭৪ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত হয় চন্দ্রিমা উদ্যান। পরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে চন্দ্রিমা উদ্যানের ভেতরে গড়ে তোলা হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার কমপ্লেক্স। এ ছাড়া জিয়া ও এরশাদের শাসনামলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে পাঁচ বিঘা জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয় ‘জাতীয় কবরস্থান’। সেখানে অন্তত সাতজনের কবর রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে নকশা উপেক্ষা করে আসাদগেটের উল্টো দিকে সংসদ ভবনের জায়গায় একটি পেট্রলপাম্প স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয় তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর ছোট ভাইকে। সংসদের মূল ভবনের পাশেই খোলা সবুজ চত্বরে নির্মাণ করা হয় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে লুই আই কান যখন মূল নকশাটি করেন, তখন সেখানে ২৭টি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি সচিবালয়ের পরিকল্পনা ছিল। সেখানে মসজিদ ছিল, মাঝে বাগান ছিল। আর চন্দ্রিমা উদ্যানের জায়গায় একটি বড় সড়ক ছিল। কিন্তু মূল নকশা হাতে না থাকায় স্থাপত্য অধিদফতর অনুলিপি ধরে লুই আই কানের নকশা কিছুটা সংশোধন করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুলিপি ধরে নয়, ১৯৭৪ সালের মূল নকশা ধরে সচিবালয়সহ সবকিছু করার নির্দেশ দিয়েছেন। লুই আই কানের মূল নকশা হাতে পাওয়ার পর সংসদ লাইব্রেরি, সংসদ জাদুঘর সরিয়ে নেওয়া হতে পারে চন্দ্রিমা উদ্যানে। এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া। সংসদ সচিবালয়ের গণপূর্ত শাখা সূত্রে জানা যায়, লুই আই কানের মূল নকশার প্রথম ধাপ ছিল ২০৮ একর জায়গার ওপর লেকের মাঝখানে জাতীয় সংসদ ভবন নির্মাণ। যার সামনে ও পেছনেও বিস্তীর্ণ সবুজ খোলা মাঠ থাকবে। চারদিকে আট লেনের সড়ক। দ্বিতীয় ধাপে লেকের ওপারে গড়ে তোলা হবে লাইব্রেরি, জাদুঘর, হাসপাতাল, সচিবালয়সহ প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক বলয়।

নকশা আনার বিলম্বের বিষয়ে স্পিকারের দফতর সূূত্র জানায়, পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল চূড়ান্ত করতেই সময় ক্ষেপণ হয় বেশি। এরপর তাদের ভিসা সংগ্রহ করতে হয়েছে। প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল স্থাপত্য অধিদফতরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল যাবে। সেখানে সংসদ সচিবালয়ের প্রতিনিধি থাকবেন। কিন্তু এ সফরসহ লুই আই কানের নকশা আনার খরচ যেহেতু বহন করবে সংসদ সচিবালয় তাই তারা চাইছিলেন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবে সংসদ সচিবালয়। এ লড়াইয়ে অবশেষে জয় হয় সংসদ সচিবালয়ের। জাতীয় সংসদের অতিরিক্ত সচিব (আইপিএ) আ ই ম গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে গঠিত হয় পাঁচ সদস্যের চূড়ান্ত প্রতিনিধি দল। এতে আরও রয়েছেন— স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (উন্নয়ন শাখা-৯ অধিশাখা) মো. মনিরুজ্জামান, গণপূর্ত অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব, স্থাপত্য অধিদফতরের সহকারী স্থপতি সাইকা বিনতে আলম। স্থাপত্য অধিদফতর সূত্র জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে লুই আই কানের ৮ হাজারের বেশি নকশা এবং ডকুমেন্ট আছে। সেখান থেকে সংসদ ভবন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ৮৫৩টি নকশা খুঁজে বের করতে হয়েছে। এর মধ্যে ১১৫টি আনবিল্ড নকশা রয়েছে। নকশা খুঁজতে বাংলাদেশের কাছে লুই আই কানের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে সরকারকে এ পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়েছে ৩ হাজার ৫৫০ মার্কিন ডলার। এই প্রতিনিধি দল এবার সেখানে গিয়ে পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটিতে সংরক্ষিত লুই আই কানের নকশাগুলো যাচাই-বাছাই করবে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী এসব নকশার অনুকূলে বিল পরিশোধ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিটি নকশার জন্য ১৯ ডলার হিসেবে তিন সেট নকশার জন্য ৬০ হাজার ডলার দাবি করেছে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, লুই আই কানের নকশা আনতে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবক্রমে সংসদ সচিবালয়ের কমিশন ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ ডলারের একটি ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে নকশা তল্লাশি ফি বাবদ ৩ হাজার ৫৫০ ডলার। এ ছাড়া স্থপতি লুই আই কানের বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটির ফি, হার্ড কপি ও সফট কপি নকশার প্রস্তুতির ব্যয় ও কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের ব্যয় এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে নকশার খোঁজে তিন দফা যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ গণপূর্ত অধিদফতর ও স্থাপত্য অধিদফতরের তিন কর্মকর্তা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow