Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৪
২০ কোম্পানিকে ওষুধ উৎপাদন বন্ধে নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি কোম্পানিকে সাত দিনের মধ্যে সব ধরনের ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গতকাল বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন এবং বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। একই সঙ্গে ১৪টি কোম্পানিকে ওই সময়ের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধ করতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালককে আদালতের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আদালতের আদেশে এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যালস, এভার্ট ফার্মা লিমিটেড, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ড্রাগল্যান্ড লিমিটেড, গ্লোব ল্যাবরেটরিজ (প্রাইভেট) লিমিটেড, জলপা ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, কাফমা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ন্যাশনাল ড্রাগ ফার্মা লিমিটেড, নর্থ  বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, রিমো কেমিক্যালস লিমিটেড (ফার্মা ডিভিশন), রিড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, স্টার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, সুনিপুণ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, টুডে ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডকে সব ধরনের ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদ-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড, আলকাদ ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড,  বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বেঙ্গল ড্রাগস অ্যান্ড  কেমিক্যালস (ফার্মা) লিমিটেড, ব্রিস্টল ফার্মা লিমিটেড, ক্রিস্ট্যাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, এমএসটি ফার্মা অ্যান্ড হেলকেয়ার লিমিটেড, অরবিট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, পনিক্স কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি লিমিটেড, রাসা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও সেভ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডকে অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই ৩৪টি কোম্পানির অনুমোদন বাতিলে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। রুলে ওই সব কোম্পানির লাইসেন্স ও অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনের অনুমোদন কেন বাতিল  ঘোষণা করা হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সেক্রেটারি জেনারেল ও র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ সাতজনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে গত ৫ জুন হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার। ২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর  ভেজাল এবং নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুককে প্রধান করে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. সাহাবুদ্দিন কবীর চৌধুরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী। বিশেষজ্ঞ কমিটি দেশের ৮৪টি ওষুধ কোম্পানি পরিদর্শন করে  সেগুলোর সক্ষমতা মূল্যায়নের পর গত ১ ফেব্রুয়ারি সংসদীয় কমিটিতে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০টি কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল এবং ১৪  কোম্পানির সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক (নন-পেনিসিলিন,  পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপ) ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিলের সুপারিশ করা হয়। এ বিষয়ে ‘জীবন রক্ষাকারী ওষুধে  ভেজাল’ শিরোনামে ১৯ ও ২০ এপ্রিল দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়।




up-arrow