Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ জুন, ২০১৬ ২৩:০৪
সম্প্রসারণ হচ্ছে বীমা খাত
১০০ টাকা প্রিমিয়ামে নিরাপত্তা বীমা, সুযোগ পাবেন কৃষক শ্রমিক জেলে মাঝি
রুকনুজ্জামান অঞ্জন
সম্প্রসারণ হচ্ছে বীমা খাত

ব্যাংকের পাশাপাশি এখন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বীমা খাতকেও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১০০ টাকার মাসিক প্রিমিয়ামে সামাজিক নিরাপত্তা বীমা চালু করা হয়েছে।

এ ছাড়া উপকূলীয় মত্স্যজীবী, গার্মেন্ট, মোটরযান ও নির্মাণশ্রমিক, দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মাঝি, জেলে ও কৃষক এবং প্রবাসীদের কল্যাণে বিশেষ বীমা স্কিম চালু করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন এসব তথ্য।

বীমা খাত সম্পর্কিত বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বীমা খাত ক্রমশই সম্প্রসারিত হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পলিসি গ্রাহকের সংখ্যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ৬৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। ’ বীমা খাতে এ প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বাজেট বক্তৃতায় বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কার অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন অর্থমন্ত্রী।

বীমা খাতের উন্নয়নে নেওয়া সংস্কারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, উল্লেখযোগ্য কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যবীমা এবং মত্স্য ও পশুসম্পদের বীমা, আবহাওয়া-সূচকভিত্তিক শস্যবীমা এবং বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান বাড়বে বলে বাজেট বক্তৃতায় আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, সরকার বীমা শিল্পকে যুগোপযোগী ও  আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কার সাধন করেছে। এসব সংস্কারের ফলে বীমা শিল্পে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়েছে এবং বীমা সেবায় পেশাদারি বেড়েছে। বাংলাদেশের  টেকসই  অর্থনৈতিক  উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, কৃষি ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বীমা খাতকে আরও বেশি জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক-এডিবিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থাও এগিয়ে এসেছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের পেনশন নিশ্চিত করার ঘোষণা এসেছে বাজেটে। বেসরকারি খাতের এই পেনশন স্কিমেও বীমা খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী বলেন, দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের খাদ্য উত্পাদন নিশ্চিত করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় পাইলট ভিত্তিতে আবহাওয়া ইনডেক্সভিত্তিক শস্যবীমা প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এতে সুফল পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের বীমা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইভাবে মত্স্য ও পশুসম্পদের বীমা করার বিষয়টিও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বীমা শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি বেসরকারি বীমা কোম্পানিকে উৎসাহিত করার জন্য সরকার নানামুখী নীতি-কৌশল গ্রহণ করেছে। ফলে বর্তমানে দেশে বেসরকারি মালিকানাধীন ৪৬টি সাধারণ বীমা কোম্পানি ও ৩১টি জীবন বীমা কোম্পানি বীমা ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছে। ২০০২ সালে বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় ছিল ৪৫০ কোটি টাকা, যা ২০১৪ সালে বেড়ে ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

up-arrow