Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ জুন, ২০১৬ ২৩:০৭
দাম বাড়লেও ভিড় কমেনি চকে
নিজস্ব প্রতিবেদক
দাম বাড়লেও ভিড় কমেনি চকে

পুরান ঢাকার চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী খানদানি ইফতার সামগ্রীর সুনাম শুধু দেশেই নয়, রয়েছে দেশের বাইরেও। ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গা ভইরা লইয়া যায়’ এমন ডাক শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রকমারি মুখরোচক ইফতারের পসরা।

ভোজনরসিকদের কাছে এই স্থানটি বেশ জনপ্রিয়। পবিত্র মাহে রমজানে  গোটা রাজধানী ইফতারির বাজারে পরিণত হলেও চকবাজারে রোজাদারদের ভিড় থাকে একটু বেশি। তবে গতবারের চেয়ে এবারের রমজানে ইফতার সামগ্রীর দাম বেড়েছে। কোনো কোনোটির দাম আবার আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ বিলাসী এই ইফতারের আসল প্রস্তুতকারকের দাবিদার অনেকেই। এর বিক্রেতা যাকেই জিজ্ঞেস করা হয় সেই আসল প্রস্তুতকারক বলে জানান। এ নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা বিভ্রান্তি। দুপুর ১টার পর পরই চকের শাহী মসজিদের সামনের অংশে উর্দু রোডের দুই পাশে বসানো হয়ে থাকে হরেক রকমের নবাবী ইফতার সামগ্রী। চকবাজার ঘুরে জানা যায়, রাস্তার মাঝখানেই সারি সারি প্রায় দুই শতাধিক দোকান দিয়েছেন রমজানের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। যেসব ইফতার নিয়ে বসেছেন এর মধ্যে রয়েছে— সুতি কাবাব, জালি কাবাব, শাকপুলি, টিকা কাবাব, আস্ত মুরগির কাবাব, মোরগ মুসলম, বঁটিকাবাব, কোফতা, চিকেন কাঠি, শামি কাবাব, শিকের ভারী কাবাব, ডিম চপ, কাচ্চি, তিহারি, মোরগ পোলাও, কবুতর ও কোয়েলের রোস্ট, খাসির রানের রোস্ট, দইবড়া, মোলার হালিম, নুরানি লাচ্ছি ও পনির। এসবের মধ্যে চিকেন পরটার দাম ৪০ টাকা, আগে ছিল ৩০ টাকা। চিকেন পিঠা ১৫ টাকা, আগেও ছিল ১৫ টাকা। মুরগির গ্রিল ৩০০ টাকা, আগে ছিল ২৫০ টাকা। কোয়েল পাখির রোস্ট ৭০ টাকা, আগে ছিল ৫০ টাকা। সুতি কাবাব প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, আগে ছিল ৫০০ টাকা কেজি। টিক্কা কাবাব ৫০ টাকা, আগে ছিল ৩০ টাকা। বিফ কাবাব ৭০ টাকা, আগে ছিল ৫০ টাকা। জালি কাবাব দাম ৩০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। খাসির রানের রোস্ট ৫৫০ টাকা, আগে ছিল ৪৫০ টাকা। চিকেন ললিপপ ২৫ টাকা। শাহী জিলাপি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, আগে ছিল ১৫০ টাকা। কাঠি কাবাব ও ডিম চপ ২০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। গতবারের চেয়ে এবারের রমজানে এসব পণ্যের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কথা হয় ইফতার ব্যবসায়ী জুম্মন মিয়া ও মো. রমজানের সঙ্গে। তারা জানান, গতবারের চেয়ে এবারের জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়েছে। তাই ইফতার সামগ্রীর দামও বাড়ানো হয়েছে।

শতাধিক বছরের খ্যাতি ও ঐতিহ্য নিয়ে প্রতি বছর রমজান মাসজুড়ে আয়োজন করা হয় চকবাজারের ইফতার। দাম বৃদ্ধির কারণে ঐতিহ্যবাহী এই ইফতারি বাজারের জৌলুস দিন দিন কমতে থাকলেও নামডাকের কারণে ভোজনরসিকরা অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে চকবাজারেই ইফতারি কেনাকাটা করতে আসেন। তবে বিভিন্ন ইফতারির দাম বাড়লেও ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ ১২ পদের ১২ মসলার এই খাবারের দামে রয়েছে ভিন্নতা। কেউ কেউ প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ৪৫০ টাকা দিয়ে নিচ্ছেন। এই আইটেমের আসল নকল নিয়ে রয়েছে বেশ বিতর্ক। প্রায় অনেকেই একমাত্র পৈতৃক সূত্রে প্রস্তুত করছেন বলে দাবি করছেন।   জুম্মন মিয়া বলেন, বড় বাপের পোলায় খায় তৈরিতে আমিই সবচেয়ে পুরনো বাবুর্চি। অন্যদিকে সালেকীন নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, একমাত্র আমিই পৈতৃকভাবে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ তৈরি করে আসছি। আগে আমার দাদা কামেল মহাজন বানাইত। এরপর আমার বাবা জানে আলম বানাইছে। এখন এই হাল আমি ধরছি। জানা যায়, চকবাজারের ইফতারির ইতিহাস প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো। এই উৎসবের শুরু মোগল আমল থেকে। মোগল আমলে শাহী মসজিদের সামনে একটি কূপ ছিল। তার চারপাশে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে বিক্রি করা হতো হরেক রকম নবাবী ইফতারি। সেই কূপ এখন আর নেই। তবে আগের মতোই মসজিদের সামনে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে বিক্রি করা হয় ইফতারি। ১৭০২ সালে ঢাকার দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খান চকবাজারকে আধুনিক বাজারে পরিণত করেন। এরপর গড়ে ওঠে নানা রকম মুখরোচক খাবারের দোকান। বর্তমানে দেশজুড়ে রয়েছে এই ইফতারির সুনাম।

up-arrow