Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ জুন, ২০১৬ ২৩:২৪
সোলার পার্ক নির্মাণ হচ্ছে কুড়িগ্রামে
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
সোলার পার্ক নির্মাণ হচ্ছে কুড়িগ্রামে

কুড়িগ্রামের ধরলা সেতুর পূর্ব প্রান্তে ১১৬ দশমিক ২৫ একর জমির ওপর ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার পার্ক প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এ পার্ক প্রকল্পের স্থান নির্ধারণসহ ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

কুড়িগ্রামের বিদ্যুৎ বিক্রয় বিতরণ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল জানিয়েছেন, বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলায় দৈনিক মোট বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ৬ মেগাওয়াট। আর সোলার পার্ক প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দিনের ভাগে এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ৩০ মেগাওয়াট। তখন ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে কুড়িগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট বিদ্যুৎ লালমনিরহাট গ্রিডের মাধ্যমে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। শুধু রাতের বেলা জাতীয় গ্রিড থেকে কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎ নিতে হবে।

তবে এ প্রকল্প নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, সোলার পার্ক প্রকল্পের জন্য যে স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে বন্যার সময় পানি জমা হয়। তা ছাড়া ওই নির্ধারিত স্থান থেকে ধরলা নদীর উৎস স্থলের দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। ফলে উৎসস্থল থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পানি এখন মূল নদী হয়ে আসে। এমতাবস্থায় যদি ওই স্থানটি উঁচু করে সোলার পার্ক নির্মাণ করা হয়, তাহলে বন্যার সময় পানির তোড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে শহরে পানি প্রবেশ করবে। এসব উদ্বেগজনক বিষয়াদি বিবেচনায় নিয়ে আমরা আপত্তি জানিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমরা যে দুটি পরীক্ষা (হাইড্রোলিক এবং ওয়াটার মডেলিং টেস্ট) করতে বলেছি, সেই পরীক্ষা দুটি করার জন্য যে অর্থ লাগবে সেই অর্থেরও সংস্থান হয়নি। তবে জেলা প্রশাসন পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই আপত্তিকে খুব বেশি আমলে নিতে নারাজ। জেলা প্রশাসনের ভাষ্য, খাস জমির অপ্রতুলতার কারণেই ওই স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ ওই নির্ধারিত স্থানে ১১৬ দশমিক ২৫ একর জমির মধ্যে ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমি রয়েছে ৯৮ দশমিক ২৭ একর জমি। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে আর প্রয়োজন মাত্র ১৭ দশমিক ৯৮ একর জমি। এরই মধ্যে ব্যক্তি মালিকানা জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন চলছে জমির মূল্য নির্ধারণ কাজ। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন পরিদফতরের একটি সূত্র জানিয়েছেন, ভূমি কেন্দ্রিক জটিলতা মিটে গেলে শিগগিরই সোলার পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে। কাজটি করবে একটি চীনা কোম্পানি এবং অর্থায়নও করবে চীনকেন্দ্রিক একটি ব্যাংক। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে কি পরিমাণ অর্থ লাগবে— এমন প্রশ্নের উত্তরে সূত্রটি জানায়, এটি এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবে প্রকল্প ব্যয়ের পরিমাণ হতে পারে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow