Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১০ জুন, ২০১৬ ২২:৫৮
ইফতার বাজার
জাকির মিয়ার টক-মিষ্টি জিলাপি ময়মনসিংহে
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
জাকির মিয়ার টক-মিষ্টি জিলাপি ময়মনসিংহে

ময়মনসিংহে রোজার মাসে বাহারি ইফতারির পসরা সাজিয়ে দোকানিদের হাঁকডাক শুরু হয় বিকালেই। মুখরোচক এসব খাবারের দিকে ক্রেতাদেরও আকর্ষণ বেশ। তবে সবকিছু ছাপিয়ে প্রতিবারই চাহিদার শীর্ষে থাকছে নগরীর জিলা স্কুল মোড়ের জাকির মিয়ার ‘টক-মিষ্টি জিলাপি’। জানা গেছে, ডাল-চালের এ চুটকি জিলাপি প্রায় দুই যুগ ধরে তৈরি করে আসছেন জাকির মিয়া (৪৩)। কোনোরকম হাঁকডাক ছাড়াই ব্যতিক্রমী এ টক-মিষ্টি জিলাপি কিনতে বিকালের পরই সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। তবে গেল বছরের চেয়ে এবার কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়ে দাম রাখা হচ্ছে ১২০ টাকা। এর পরও ভাটা পড়েনি বিক্রিতে। লাইনে দাঁড়িয়েই কিনতে হচ্ছে এমন সুস্বাদু জিলাপি। জিলাপি তৈরিতে সাধারণত আটা বা ময়দা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এ জিলাপির ক্ষেত্রে চাল ব্যবহৃত হয়। চালের সঙ্গে ডাল মিশিয়ে ভাজার কারণে স্বাদটাই অন্যরকম রূপ নেয়। এ কারণেই ময়মনসিংহ নগরীর সর্বত্র চাহিদা রয়েছে এ জিলাপির— এমনটাই জানিয়েছেন কারিগর জাকির মিয়া। গতকাল গিয়ে দেখা গেছে, আগের দিন সন্ধ্যায় চালের গুঁড়া, মাষকলাই ও ময়দা গুলিয়ে রাখা উপকরণ দিয়েই সকালেই জিলাপি ভাজতে শুরু করেন জাকির মিয়া ও তার কারিগররা। এরপর শুরু হয় বিশাল থালায় সাজানোর কাজ। স্বাদে অনন্য এ জিলাপি কিনতে দুপুরের পরই রোজাদারদের ভিড় শুরু হয়ে যায়। জাকির মিয়ার সঙ্গে সঙ্গ দেওয়া আবদুল বারেক কারিগর বলেন, ‘বিভিন্ন ইফতার মাহফিলেও দারুণ জনপ্রিয় এ চুটকি জিলাপি। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি প্রতিদিনই জিলাপি বিক্রির অর্ডার নিতেই ব্যস্ত আমরা।’ স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে ময়মনসিংহ নগরীর মানুষের মাঝে ঐতিহ্যবাহী এ জিলাপি ইফতারির আইটেম হিসেবে বেশ চাহিদাসম্পন্ন। টক হওয়ায় এ জিলাপি সবার বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। জাকির মিয়ার বানানো জিলাপি চিবোতে শুরু করলেই পাওয়া যায় মচমচে মুড়ির মতো কুড়মুড়ে শব্দ। রোজায় এ জিলাপি ছাড়া ইফতার অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন কিনতে আসা রিয়াসাত মো. তৌহিদ তুলতুল। জাকির মিয়া বলেন, ‘প্রতিবারই জিলাপি ভাজতে নতুন তেল ব্যবহার করি। একবার ব্যবহার করা তেল দ্বিতীয়বার ব্যবহার করি না। মান ভালো থাকায় দূরদূরান্ত থেকেও লোকজন জিলাপি কিনতে এখানে আসেন।’ এ ছাড়াও নগরীর অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলোয় রোজার মাসে স্পেশাল ইফতারির পসরা সাজানো হয়। এর মধ্যে হালিম, চিকেন রোল, চিকেন তন্দুরি, চিকেন সাসলিক, মাটন কাঠি, চিকেন অনথন, বিভিন্ন প্রকারের কাবাব উল্লেখযোগ্য।




up-arrow