Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জুন, ২০১৬ ২৩:১৩
জঙ্গি নির্মূলে কঠোর হওয়ার আহ্বান নাগরিক সমাজের
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে জঙ্গিবাদের ভয়াবহ উত্থান নির্মূল করতে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। এ জন্য সব প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত নাগরিক সমাজ। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সন্ত্রাসবাদ, নৈতিকতা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার : জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানায় তারা। সংগঠনের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, সাংবাদিক আবেদ খান, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ জমির, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক ম. হামিদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী, নওয়াজীশ আলী খান, আইনজীবী তুরিন আফরোজ, ডা. নুজহাত চৌধুরী প্রমুখ। সভায় কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বর্তমানে দেশে যে সংকট চলছে, এর সমাধানে সরকারকে আরও তত্পর হতে হবে। ঘটনার মূলে যেতে হবে। যে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে, সেটিকে জোরদার করতে হবে। তবে শুধু সরকার একা এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাস করেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সামাজিক শক্তিগুলোকেও মাঠে নামতে হবে। খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, শক্তিকে শক্তি দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে। জঙ্গিবাদকেও সেভাবেই শক্তভাবে মোকাবিলা করতে হবে। জঙ্গিবাদ দমনে দেশের সব মাওলানাকে জমায়েত করে ইসলামের আলোকে তাদের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, জঙ্গিবাদের যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেগুলোকে শুধু এখনকার ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জয়ের পর থেকেই পরাজিতরা এসব ষড়যন্ত্র করে চলেছে। আজকে তারাই সংখ্যালঘুসহ নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ করছে। সেনাবাহিনীর সাবেক একজন মেজর, যিনি এই জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত, তাকে কেন এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? আর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে। যেসব জঙ্গি ঘটনা ঘটছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত। কাজেই শুধু কথা না বলে যথাযথভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে। মোহাম্মদ জমির বলেন, ধর্মের নামে একের পর এক হত্যা চলছে। নাগরিক সমাজকে এখন একাত্তরের মতোই জেগে উঠতে হবে। শুধু নাগরিক সমাজ নয়, বুদ্ধিজীবীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আবদুর রশিদ বলেন, গত ১৮ মাসে ৪৬টি জঙ্গি হামলায় ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি ও রাজনৈতিক দলগুলো জঙ্গিবাদকে কৌশল হিসেবে নিয়েছে। সরকারকে দৃশ্যমানভাবে আন্তরিকতা দেখাতে হবে। জঙ্গিবাদের দানবীয় শক্তিকে বিনাশ করতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow