Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুন, ২০১৬ ২৩:১০
ঝড়ে লণ্ডভণ্ড দক্ষিণাঞ্চল বজ্রপাতে নিহত ৮
প্রতিদিন ডেস্ক
ঝড়ে লণ্ডভণ্ড দক্ষিণাঞ্চল বজ্রপাতে নিহত ৮

দেশের বিভিন্নস্থানে গতকালও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বজ্রপাতের সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতে ঘরবাড়ি-গাছপালা ও বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

খুলনা : গতকাল মধ্য রাতের পর থেকে সকাল পর্যন্ত টানা প্রায় ৫ ঘণ্টার বজ্রপাতে প্রকম্পিত হয়েছে খুলনা। এ সময় অধিকাংশ মানুষ নির্ঘুম রাত পার করেছেন। ভয়ে পরিবার- পরিজন নিয়ে অনেকে নিরাপদ অবস্থান গ্রহণ করেন। বজ পাতের সঙ্গে ছিল প্রচণ্ড বাতাস ও ভারী বৃষ্টি। বজ পাতে খুলনার কয়রা, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। এ সময় গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে, সঞ্চালন লাইন ছিঁড়ে গেছে, ট্রান্সমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতায় থাকা প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক দিনভর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিলেন। কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শমসের আলী জানান, উপজেলার মঠবাড়ী গ্রামে বজ পাতে বাবা মুরাদ গাজী (৩৩) ও তার মেয়ে মুসলিমা আক্তার সোনালীর (৫) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুজন ঘরের বারান্দায় বসেছিলেন। বজ পাতে মুসলিমা আক্তারের মা আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পাইকগাছা উপজেলার খুরিয়া গ্রামে ঘরের ওপর বজ পাতে মান্নান গাজী (৪৫) নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। বটিয়াঘাটা উপজেলার দারোগার ভিটা এলাকায় আমেনা বেগম (৩২) নামের একজন নিজ ঘরে বজ পাতে নিহত হয়েছেন। টানা বজ পাত সম্পর্কে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুজিবর রহমান জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনাকে বলে ‘বায়ুমণ্ডলীয় বিশৃঙ্খলা’। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বাতাসের ওজন স্তর হালকা হয়ে গেছে। এ কারণে বাতাসের সঙ্গে মেঘের চলাচল ছিল অস্বাভাবিক বেশি। মেঘ হালকা হয়ে এর চলন দ্রুত হওয়ায় মুহুর্মুহু সংঘর্ষের কারণে টানা বজ পাতের ঘটনা ঘটেছে। নড়াইল : কালিয়া উপজেলার বাহিরডাঙ্গা গ্রামের নবগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থানরত শূকর পালের রাখাল অতুল কুমার রায় (৫৫) বজ পাতে মারা গেছেন। গভীর রাতে বজ পাতের ঘটনা ঘটে। অতুল যশোর সদর থানার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত মতিলাল রায়ের ছেলে। এ সময় ২৪টি শূকরেরও মৃত্যু হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাহিরডাঙ্গা গ্রামে শূকর পালের রাখাল যশোরের মনিরামপুর থানার শ্যাম মণ্ডল (৫০), স্বপন তরফদার (৫০), স্বরূপ মণ্ডল (২২), পরিতোষ মণ্ডল (৫৫) ও অতুল কুমার রায় (৫৫) তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অতুল রায় প্রকৃতির ডাকে তাঁবুর বাইরে গেলে বজ পাতে তিনি মারা যান। অন্যরা তাঁবুতে জ্ঞান হারান। কালিয়া থানার ওসি আবদুল গণি জানান, একই সময়ে বড় কালিয়া গ্রামের বকুল শেখের গোয়াল ঘরের ওপর বজ পাতে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের দুটি ষাঁড়ের মৃত্যু হয়েছে।   

ঝিনাইদহ : কালীগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে গভীর রাতে বজ পাতে জামেলা খাতুন (৪৮) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত জামেলা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাতে ঝড় শুরু হলে ঘরের বাইরে থেকে কাপড় ওঠাতে যান জামেলা। এ সময় বজ পাতে তার মৃত্যু হয়।

যশোর : সদর উপজেলার বানিয়াবহু গ্রামে বজ পাতে তাহাজ্জত মোড়ল (৬৫) নামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা মারা গেছেন। রাত ১২টার দিকে প্রকৃতির ডাকে তিনি ঘরের বাইরে বের হন। এ সময় তার পাশেই একটি নারিকেল গাছে বজ পাত হলে তিনি মারা যান। চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, নিহত তাহাজ্জত মোড়ল চাঁচড়া ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

বাগেরহাট : কচুয়ায় বজ পাতে মনোয়ারা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সকালে কচুয়া উপজেলার কচুয়া গ্রামে বৃষ্টির মধ্যে প্রাত্যহিক কাজ সারতে ঘরের বাইরে বের হলে আকস্মিক বজ পাতে তার মৃত্যু হয়। তিনি কচুয়া গ্রামের মো. শাহ আলমের স্ত্রী।

এ ছাড়া সদর ও চিতলমারী উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল সকালে এ ঝড়ের আঘাতে চিতলমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ও কলাতলা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের দোকান-পাট এবং কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়।

ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। চিতলমারীতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সময়ে বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া বাজারে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ি, দোকান ঘর ও গাছপালা উপড়ে যায়।

মাদারীপুর : গভীর রাত থেকে গতকাল ভোরে কালবৈশাখী ঝড়ে মাদারীপুরে একটি মাদ্রাসাসহ প্রায় ২০টি ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের পূর্ব কুতুবপুর হাতেমিয়া মাদ্রাসার টিনের চাল উড়ে যায়। এ ছাড়াও সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow