Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুন, ২০১৬ ২৩:১২
টিএসসিতে তরুণদের মিলনমেলা
ফরহাদ উদ্দীন
টিএসসিতে তরুণদের মিলনমেলা

খোলা আকাশের নিচে সবুজ মাঠ। মাঠজুড়ে অর্ধশতাধিক ছোট ছোট দলের উপস্থিতি।

কোনোটিতে তিনজন আর কোনোটিতে ত্রিশ। সামনে রাখা বাহারি রকমের ইফতার সামগ্রী। মাঠের সবুজ ঘাসের ওপর জায়গা না পেয়ে অনেকে গোল হয়ে বসেছেন করিডরে। রমজান মাসে ইফতারের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির দৃশ্য এটি।

তরুণদের ইফতারের প্রিয় স্থান এই টিএসসি। এখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী এভাবে ইফতারে মিলিত হয়। ইফতারের সময় তিলধারণের জায়গা থাকে না ভিতরে-বাইরে। ঢাবিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভিড় জমায় এখানে। ফলে ইফতারের আগে পুরো এলাকা পরিণত হয় তারুণ্যের মিলনমেলায়। সবার উদ্দেশ্য সারা দিনের সিয়াম সাধনার পর বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আনন্দে ইফতার করা। তরুণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ইফতার করতে আসে এখানে। প্রতিদিন বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইফতারের আয়োজনও চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে ইফতারকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিকাল থেকে শুরু হয় ইফতারের প্রস্তুতি। পত্রিকা বিছিয়ে বা প্লাস্টিকের বোলে চলে বিভিন্ন আইটেম মাখানোর কাজ। এ আয়োজনে থাকে মুড়ি, ছোলা, খেজুর, জিলাপি, বেগুনি, পিয়াজু, চিকেন, পাকুড়া, বুরুন্দা, আলুর চপ ইত্যাদি। থাকে বিভিন্ন রকমের পানীয়, জুস, কলা, আপেলসহ নানা জাতের ফল। জনপ্রতি চাঁদা তুলে চলে ইফতারের এ আয়োজন। আবার অনেক ছাত্রী হল থেকে রান্না করে নিয়ে আসেন বন্ধু-বান্ধবের জন্য।   ইফতার শেষে চলে আড্ডা। গতকাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত গলাচিপা স্বেচ্ছাসেবী ছাত্র সমিতি টিএসসিতে ইফতার পার্টির আয়োজন করে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবির রায়হান জানান, প্রতি বছরই এখানে ইফতারের আয়োজন করি। একসঙ্গে ইফতার করার মাধ্যমে পুনর্মিলনী হয়। এ ছাড়া একত্রে ইফতার করার মাধ্যমে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকি। ঢাবির শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, টিএসসির ইফতার একটু ব্যতিক্রম। এখানে তারুণ্যের যে উচ্ছ্বাস দেখা যায় তা অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। সবুজ ঘাসের ওপর বসে একত্রে ইফতার করার মজাই আলাদা। সব সময় চেষ্টা করি বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে এখানে এসে ইফতার করতে। ইফতারের এ মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে টিএসসি, সড়কদ্বীপ, মিলন চত্বর, হাকিম চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় ৩০টি অস্থায়ী দোকান। দুপুর থেকেই ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। রমজানে সকালে বেচাকেনা না হলেও দুপুর থেকে শুরু হয় তাদের ব্যস্ততা। সন্ধ্যা যত ঘনিয়ে আসে তাদের যেন দম নেওয়ার সুযোগ থাকে না। দোকানগুলোতে ভিড় জমায় অসংখ্য ক্রেতা। ইফতারের সময় হওয়ার আগেই বিক্রি হয়ে যায় ইফতার সামগ্রী। ইফতারি বিক্রেতা বেলাল হোসেন বলেন, অন্য সময় সারা দিন বেচাকেনা করলেও রমজান মাসে দুপুর থেকে শুধু ইফতারি বিক্রি করি। রোজাদারদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত বিভিন্ন আইটেমের ইফতার সামগ্রী তৈরি করার চেষ্টা করি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow