Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুন, ২০১৬ ২৩:১৪
কলকাতার চিঠি
মমতা কি সেই জেদ ধরে আছেন
সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত

দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গেল। বহু চর্চিত এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান কী তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তার বাধাতেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকায় গিয়ে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করতে পারেননি। মমতা কি এখনো সেই জেদ ধরে আছেন যে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানিবণ্টনের চুক্তি করবেন না?

সম্প্রতি কলকাতায় এক বিদেশি কূটনীতিকের বাড়িতে এক পার্টিতে আমিও আমন্ত্রিত ছিলাম। সেখানে সাংবাদিক থেকে রাজনীতিক সবার মুখে একই প্রশ্ন— তিস্তার ভবিষ্যৎ কী? এই প্রশ্নের জবার খুঁজতে সোমবারই যোগাযোগ করেছিলাম, মমতা সরকারের পদাধিকারীদের সঙ্গে। তাদের প্রশ্ন করি, আপনাদের অবস্থানের কী পরিবর্তন হয়েছে। জনৈক অফিসার বলেন, নতুন সরকার আসার পর এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। বলতে পারব না অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে কিনা। তবে বেশি কথা বললে চাকরি চলে যেতে পারে। মুখ্য সচিবের দফতরও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করে। ঘটনার গতি-প্রকৃতি দেখে যোগাযোগ করেছিলাম সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননের সঙ্গে। তিস্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউপিএ আমলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং যখন ঢাকায় যান তার আগেই কাগজপত্র তৈরি হয়ে গেছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বাগড়া দেওয়ায় সে চুক্তি সম্পন্ন করা যায়নি। এ কথা সবাই জানি। আমি নিজে তিনবার কলকাতায় গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তাকে রাজি করাতে পারিনি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। আশা করি কেন্দ্রের মোদি সরকার আর মমতা সরকারের মধ্যে যে আঁতাত আছে তাতে এ ব্যাপারে তারা উদ্যোগী হবেন।

পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস এবং বামপন্থিরা চান এই চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ-ভারত এই দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা হোক। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশের জামায়াত ও বিএনপির চাপে মমতা ফাইলটি চেপে বসে আছেন। কারণ সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনেই দেখা গেছে এই জোট অর্থবল আর লোকবল দিয়ে মমতাকে নানাভাবে সাহায্য করেছে। বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, এই চুক্তির ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজনে আমরা আন্দোলনে নামব। মমতার ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের এক নেতা এবং মন্ত্রী বলেছেন, ‘ওরে বাবা, এসব ব্যাপারে আমরা কথা বলব না। যা বলার দিদিই বলবেন।’

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী কোনো নদীর উৎস এক দেশে হলেও তার পানি তার নিচের দিকের দেশগুলোকে দিতেই হবে। এই ইস্যুকে জিইয়ে রেখে তৃণমূলের কী লাভ হচ্ছে তা বোঝা খুবই দুষ্কর। মোদি-মমতার যে আঁতাত চলছে, তাতে মোদির উচিত হবে মমতাকে বোঝানো। ওয়াকিবহাল মহল মনে করে বছরের শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগেই যা করণীয় তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করা উচিত। সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ইতিমধ্যে মনমোহনের তৈরি করা খসড়া নিয়েই ঢাকায় মমতাকে পাশে বসিয়ে চুক্তি সই করেছেন মোদি। এখন মোদিরই দায়িত্ব মমতাকে রাজি করিয়ে দ্রুত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিটি রূপায়ণ করা। বাংলাদেশের কাছে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী হন তখন ফারাক্কা নিয়ে জ্যোতি বসু ও গনি খান চৌধুরীর উদ্যোগে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল।

লেখক : ভারতীয় সাংবাদিক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow