Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১২ জুন, ২০১৬ ২৩:১৬
মেয়র আসার পর কমে গেল মাংসের দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজারে সকাল থেকে দুপুরের কিছু আগ পর্যন্ত ৪৬০-৪৭০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছিল। দুপুরে সেই চিত্র পাল্টে যায়। পূর্ব নির্ধারিত ৪২০ টাকা দরেই বিক্রি হয় গরুর মাংস। কারণ নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন কয়েকজন বিক্রেতাকে জরিমানা করার পর এমন চিত্র দেখা গেছে। এ সময় সিটি করপোরেশন নির্ধারিত তালিকা মেনে পণ্য বিক্রি না করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত একটি মাংসের দোকানসহ তিনটি দোকানকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করে। বেশি দামে পণ্য বিক্রি করায় মেয়র কয়েকজন বিক্রেতাকে ভর্ত্সনাও করেন। গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে হাতিরপুল কাঁচাবাজারে যান মেয়র সাঈদ খোকন। মেয়র বাজারে ঢুকতেই ক্রেতারা তার কাছে অভিযোগ করেন, বাজারে সিটি করপোরেশনের মূল্য তালিকা না মেনে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এ সময় মূল্য তালিকা না মেনে ৪৫০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করায় মোতালেব মাংস বিতানকে জরিমানা করা হয়। এরপর থেকে অন্য বিক্রেতারা সিটি করপোরেশন নির্ধারিত ৪২০ টাকা দরে মাংস বিক্রি করতে থাকেন। সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা বাবু হাসান বলেন, অন্য সময় গরুর মাংস আমরা ৪৬০-৪৭০ টাকা কেজি দরে কিনি, আজকে মেয়র আসার খবর পেয়ে তারা ৪২০ টাকায় বিক্রি করছেন। এর আগে শামসুন্নাহার নামের এক ক্রেতা মেয়রকে জানান, এক কেজি হাইব্রিড কৈ মাছ ২০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। আগে ছিল ১৫০-১৬০ টাকা। মেয়র তাকে সঙ্গে নিয়ে ওই মাছবিক্রেতার কাছে গিয়ে বেশি দাম নেওয়ার কারণ জানতে চান। জবাবে বিক্রেতা সোহেল পাইকারিতে বেশি দামে কেনার কথা বলেন। আরেক ক্রেতা মেয়রের কাছে অভিযোগ করেন, মূল্য তালিকা অনুযায়ী পিয়াজ প্রতি কেজি ২৪ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও বাস্তবে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। পিয়াজের দাম বেশি রাখায় তিনি ফারুক স্টোরের দোকানি আতিকুর রহমান সুমনকে ভর্ত্সনা করে জরিমানা করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া প্রতি কেজি চিনি ৬২ টাকার পরিবর্তে ৬৫ টাকায় বিক্রি করায় জাকির স্টোরকেও জরিমানা করা হয় এ সময়।  বাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মেয়র সাঈদ খোকন জানান, বাজার মনিটরিং চলছে। ডিএসসিসির লোকজন সব সময় এ কাজে নিয়োজিত থাকবে।

তারপরও বিক্রেতারা মূল্য তালিকা না মানলে তালিকার সঙ্গে দেওয়া ফোন নম্বরে ক্রেতাদের যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে বলেন, সেই নম্বরে কল করে অভিযোগ জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খান মোহাম্মদ নাজমুস শোয়েব জানান, নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি না করায় তিন দোকানকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।




up-arrow