Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৩ জুন, ২০১৬ ২৩:২৭
‘রানা স্যারের নির্দেশে চেকপোস্ট বসাই’
নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুন মামলায় আদালতে আরও দুই র‌্যাব সদস্য সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে র‌্যাব-১১-তে কর্মরত করপোরাল জাহাঙ্গীর আলম ও র‌্যাব-১১ এর সাবেক সদস্য করপোরাল পুলিশের এসআই পলাশ গোলদার আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এসআই পলাশ গোলদার বর্তমানে খুলনা সিআইডিতে কর্মরত আছেন। আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য প্রদানের তারিখ ধার্য করেন আগামী ২০ জুন।

সাক্ষ্য প্রদানকালে র‌্যাব-১১-তে কর্মরত এসআই পলাশ গোলদার বলেন, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ভোরে টহল ডিউটি করতে দুটি গাড়িতে চড়ে ১২ জন বিভিন্ন পদমর্যাদার র‌্যাব সদস্য বের হই। একটি গাড়িতে তিনিসহ ৬ জন এবং অপর গাড়িতে ডিএডি আবদুস সালাম শিকদারসহ অপর ৬ জন ছিলেন। টহল ডিউটিতে থাকাকালীন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব-১১ সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার এমএম রানা ডিএডি আবদুস সালাম শিকদারকে মোবাইল থেকে ফোন করে বলেন, ফতুল্লা মডেল থানাধীন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় অবস্থান নিতে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই স্থানে অবস্থান করতেও নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে টহলের দায়িত্বে থাকা দুটি টিম সেখানে অবস্থান নেয়। দুপুর দেড়টার দিকে আবারও এমএম রানা স্যার ডিএডি সালাম স্যারকে মোবাইলে ফোন করে বলেন, লিংক রোডের খান সাহেব ওসমানী স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থান নিতে এবং পরবর্তী নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গে চেকপোস্ট বসাতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পরই রানা স্যার চেকপোস্ট বসাতে বললে আমরা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের একটু সামনে সিটি করপোরেশনের গেটের সামনে চেকপোস্ট বসাই। ওই সময় রানা স্যার মেসেজ দেন দুটি গাড়ি চেকপোস্টের দিকে যাচ্ছে। একটি সাদা, অপরটি কালো। রানা স্যার গাড়ি দুটি আটকাতে নির্দেশ দেন। ওই সময় তিনি আরও জানান, গাড়ি দুটির পেছনে তিনি নিজে (এমএম রানা) এবং মেজর আরিফ সাহেব আছেন। আমাদের চেকপোস্টে গাড়ি দুটি পৌঁছার আগেই মেজর আরিফ স্যার একটি নীল রঙের হাইয়েস মাইক্রোবাস দিয়ে প্রাইভেটকার দুটিকে ওভারটেক করে গতিরোধ করেন। ওই সময় মেজর আরিফ স্যার তার সঙ্গে থাকা সাদা পোশাকের লোকজনের সহায়তায় সাদা রঙের প্রাইভেট কারে থাকা যাত্রীদের তার মাইক্রোবাসে তুলে নেন। একই সময় লে. কমান্ডার এমএম রানা স্যার তার সঙ্গে থাকা সাদা পোশাকের লোকজনের সহায়তায় কালো রঙের প্রাইভেট কারের যাত্রীদের তার সঙ্গে থাকা সিলভার রঙের হাইয়েস মাইক্রোবাসে তুলে নেন। তারপর কালবিলম্ব না করে হাইয়েস মাইক্রোবাস দুটির সঙ্গে সাদা রঙের প্রাইভেট কারটি নিয়ে তড়িৎ গতিতে লিংক রোডের সাইনবোর্ডের দিকে চলে যান। ইতিমধ্যে আমাদের ডিউটি শেষ হলে আমরা র‌্যাব-১১ এর নারায়ণগঞ্জ শহরের সিপিসি-১ এর ক্যাম্পে ফিরে যাই। নারায়ণগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, গতকাল দুজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরে তাদের আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। গতকাল আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ৩ জনকে সমন পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এক র‌্যাব সদস্য আগেই জাতিসংঘ শান্তি মিশনে চলে যাওয়ায় তিনি সাক্ষ্য দিতে আসতে পারেননি। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছে আগামী ২০ জুন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক  রোডের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল ৬ জনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১ মে আরও একজনের লাশ একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় তার জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় আরেকটি মামলা করেন। প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে ৩৫ জনকে আসামি করে গত বছরের ৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।




up-arrow