Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৪ জুন, ২০১৬ ২৩:১৭
ঐতিহ্য
মৌলভীবাজারের আতর বিদেশে
সৈয়দ বয়তুল আলী, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারে আগর গাছ থেকে তৈরি হচ্ছে মূল্যবান তরল ‘আতর’। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশেই রফতানি হচ্ছে পণ্যটি। বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব আতর রপ্তানি করে প্রতি বছর ৫০০-৬০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। তবে আধুনিক পদ্ধতিতে আতর সংগ্রহ করা গেলে এটি দেশের রপ্তানি পণ্যের অন্যতম বৃহৎ খাত হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রায় ৪০০ বছর ধরে বড়লেখা উপজেলার সুজানগরের আগর-আতর ক্লাস্টারের সমাদর রয়েছে। আরব বণিক থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ী সবাই ছুটে এসেছেন এর সুবাস নিতে। বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ সবখানেই এখানের আতরের কদর রয়েছে। জানা  গেছে, সুজানগরে ৩৫০টির বেশি  ছোট-বড় আতর তৈরির কারখানা রয়েছে। এ শিল্পে জড়িত ৩০-৩৫ হাজার নারী-পুরুষ। সুজানগর, রফিনগর, বড়থল ও হালিজপুর গ্রামে আগর চাষ হচ্ছে। মৌসুমি ব্যবসা হওয়ার কারণে এখানকার নারী-পুরুষরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ কাজে নিয়োজিত হচ্ছেন। প্রতিটি শ্রমিক দৈনিক ২০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পেয়ে থাকেন।

আতর রপ্তানিকারকরা জানান, তাদের তৈরি আতর সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রোচ্যের প্রতিটি দেশ ছাড়াও ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশে আতরের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও তারা সে অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছেন না। আবার যতটুকু উৎপাদন করছেন, তাও সরবরাহ করতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আগর ক্লাস্টারকে দেশের রপ্তানি পণ্যের শীর্ষে নিয়ে আসা সম্ভব বলে জানান তারা। বাংলাদেশ আগর অ্যান্ড আতর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ থেকে বছরে ৫০০-৬০০ কোটি টাকার আতর রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে আতর রপ্তানিতে সাইটিস সনদ সংগ্রহ করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সময়মতো এ সনদ না পাওয়ায় বিদেশে পণ্য পাঠাতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া কারখানাগুলোয় গ্যাস সমস্যার কারণে উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগর-আতর উৎপাদনকারীরা জানান, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুজানগরে আগর ক্লাস্টার পরিদর্শনে এসে এটিকে ক্ষুদ্র শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেন। ২০১৪ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় আগরকে শিল্প হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। ২০১০ সাল থেকে এসএমই ফাউন্ডেশন এ শিল্পের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে আতর উৎপাদনকারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতায় সহযোগিতা ও এ শিল্পে নিয়োজিতদের ১০ শতাংশের নিচে ঋণ প্রদান করে আসছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগর থেকে আতর উৎপাদনে আধুনিক কোনো পদ্ধতি এখনো ব্যবহার হচ্ছে না। এখানে কোনো আধুনিক পরীক্ষাগার নেই। আগর  থেকে উৎপাদিত প্রতি তোলা আতরের দাম ৬ হাজার টাকার বেশি। তবে বাজারে যেসব আতর পাওয়া যায়, তা মূলত কৃত্রিম সুগন্ধি। আগর-আতর উৎপাদনকারীরা জানান, আগর গাছের কোনো অংশই নষ্ট হয় না। এগুলোর ছাল-বাকলসহ সব অংশই মূল্যবান। বেশি আতর পেতে প্রতিটি আগর গাছে ২ ইঞ্চি পর পর পেরেক মারা হয়ে থাকে। গাছ বড় হওয়ার পর সেটি ছোট ছোট টুকরো করা হয়। এসব টুকরো তিন মাস পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে চুলার মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ তাপ দিলে সেখান থেকে এক ধরনের রস বের হয়। ওই রসের উপরিভাগের তৈলাক্ত অংশ হাত দিয়ে তুলে উৎপাদন করা হয় আতর। ব্যবসায়ীরা জানান, বিমানবন্দরে নানা জটিলতায় অনেকে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এ পণ্য রপ্তানি করছেন। এসব জটিলতা এড়ানো গেলে রপ্তানি আরও গতি পাবে বলে মনে করেন তারা।




up-arrow