Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৪
নতুন শেয়ারেও পুঁজিহারা বিনিয়োগকারীরা
আলী রিয়াজ

জাতীয় বাজেটে শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন কোনো ঘোষণা না থাকায় প্রতিদিনই দর হারাচ্ছে শেয়ারের। গত কয়েক মাসে দেশের শেয়ারবাজার তলানিতেই লেনদেন হয়েছে।

স্বাভাবিক লেনদেনের যেখানে প্রতিদিন দর কমছে, এই সময় ছোট মূলধনি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়ায় আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। বাজারে চলতি বছর যেসব কোম্পানির শেয়ার তালিকাভুক্ত হয়েছে, পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা এর সবগুলোতে। গত কয়েক দিনে প্রায় সব কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। এতে ব্যাপকভাবে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকিং খাত অস্থির থাকায় বাজার চাঙা হচ্ছে না। সঙ্গে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্তির অনুমতি দেওয়ায় কারসাজির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে পুঁজিহারা হচ্ছেন অনেকে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে শেয়ারবাজার তালিকাভুক্তির অনুমতি পেয়েছে ছয়টি কোম্পানি। এর মধ্যে এ পর্যন্ত চারটি কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তালিকাভুক্তির পর থেকে এর সবগুলোর শেয়ার নিয়েই কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কারসাজির জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কারণ দর্শানোর নোটিসও দিয়েছে। বাজার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স তালিকাভুক্ত হয় ২১ এপ্রিল। ওই দিন কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয় ১৯ টাকা। ১০ টাকার শেয়ারে প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে পরিচালকরা কয়েক কোটি হাতিয়ে নেন। এখন প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর ১৩ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ৬ এপ্রিল তালিকাভুক্ত হওয়া ডোরিন পাওয়ার শুরুর দিন প্রায় ৯০ টাকায় লেনদেন হয়। এখন প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ৬৬ টাকা করে। প্রতি শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন ২৪ টাকা। ২৩ মার্চ তালিকাভুক্ত হওয়া ড্রাগন সোয়েটার তালিকাভুক্তির দিন ২০ টাকায় লেনদেন শুরু হয়। তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর হারিয়েছে ১০ টাকা। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা তিন মাসে তাদের বিনিয়োগের প্রায় অর্ধেক খুইয়েছেন এই শেয়ারে। প্রতিষ্ঠানটি তালিকাভুক্তির সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করায় শোকজ করেছিল বিএসইসি। বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হওয়া একমি ল্যাবরেটরিজ ১২৬ টাকা লেনদেন শুরু করে সর্বশেষ ১১৯ টাকায় নেমেছে। প্রথম দিন কোম্পানিটি নিজেদের বেশির ভাগ শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বাজার থেকে। এ ছাড়া তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় আছে ইয়াকিন পলিমার। এ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ বিএসইসি দুবার কোম্পানির কর্মকর্তাদের জরিমানা করে। নিজেদের আর্থিক প্রতিবেদনে অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাদের এই জরিমানা করা হয়। এখন কোম্পানিটি বাজারে তালিকাভুক্ত হতে আইপিওতে আছে। তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় থাকা ইভেন্স টেক্সটাইলের লটারি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি তালিকাভুক্ত হবে। ক্ষুদ্র মূলধনি এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জানতে চাইলে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজারে যেসব কোম্পানির প্রাথমিক শেয়ার আসছে, সেগুলো খুবই ছোট মূলধনি। কিছু জাঙ্ক শেয়ারও আপলোড হচ্ছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে পারে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। এ বছর তালিকাভুক্ত হওয়া সব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে কারসাজির সুযোগ আছে, যাতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তিনি বলেন, বড় কোম্পানি, বিশেষ করে বিদেশি প্রতিষ্ঠান, টেলিকম খাত বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার আনতে পারছে না বিএসইসি। বাজেটে যদি কিছু কর-সুবিধা দিয়ে এসব কোম্পানি আনা যেত তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াত। আবু আহমেদ বলেন, বাজেটে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ নিয়ে সুনির্দিষ্ট সুবিধা দেওয়া হলেও অনেকের আস্থা আসত। এ ছাড়া শেয়ার মুনাফার ওপর এক লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া উচিত। তাহলে আস্থা ফিরত।

up-arrow