Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৪১
অষ্টম কলাম
ওসমানীতে হঠাৎ উধাও দালালচক্র
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন সিলেটের বাসিন্দারা। প্রতিদিন শত শত প্রবাসী নাড়ির টানে দেশে ফেরেন। বিদেশের আধুনিক বিমানবন্দরের উন্নত সেবা পেয়ে অভ্যস্ত প্রবাসীরা দেশের বিমানবন্দরেও একই রকম সেবার প্রত্যাশা করতেন। কিন্তু সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আশাভঙ্গ হতো তাদের। ভয়াবহ যাত্রী হয়রানি, লাঞ্ছনা, কচ্ছপ গতির সেবা, দালালদের দৌরাত্ম্য, বহিরাগতদের আস্ফাালন— এসবের ফলে চরমভাবে আশাহত হতেন প্রবাসীরা। তবে বর্তমানে পাল্টে গেছে ওসমানী বিমানবন্দরের পুরনো সেই দৃশ্যপট। কর্তাব্যক্তিদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন যাত্রীসেবার অন্যতম ‘রোল মডেল’। দালালদের দৌরাত্ম্যহীন ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছে এখন চমকে ওঠেন সিলেট প্রবাসীরা। সিলেটের কয়েক লাখ প্রবাসীর দেশে আসা-যাওয়ার গেটওয়ে এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বছরখানেক আগেও যাত্রী হয়রানি ছিল নিত্য দিনের চিত্র। বিমানবন্দরের ভিতরের ও বাইরের দালালদের দৌরাত্ম্যে হয়রানির শিকার হতেন যাত্রীরা। বিমানবন্দরে পৌঁছার পরই প্রবাসী যাত্রীদের ব্যাগ নিয়ে টানাটানি, টাকা দাবি এবং ক্ষেত্রবিশেষ যাত্রীদের লাঞ্ছনাও করা হতো। বিমানবন্দরে যাত্রীর চেয়ে বেশি থাকত দালাল। ভয়ঙ্কর দালালচক্র টাকা নিয়ে অবাধে কনকোর্স হলসহ বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঢুকতে দিত বহিরাগতদের। প্রবাস থেকে আনা যাত্রীদের লাগেজ ও জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। নোংরা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে নাভিশ্বাস উঠত যাত্রীদের। এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যখন-তখন বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের প্রবেশ, ট্যাক্স ছাড়াই মালামাল নিয়ে আসা— এসব ছিল নিয়মিত ঘটনা। তবে গত প্রায় বছরখানেক ধরে সম্পূর্ণভাবে বদলে গেছে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৃশ্যপট। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় এটি এখন যাত্রীসেবায় অনন্য। বছরখানেক আগে দেশে ফেরার পথে ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছে সেবার মান দেখে যেসব যাত্রীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ হতেন, তারাই এখন অভিভূত হন। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ জানান, কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থানের কারণে বিমানবন্দর ছেড়ে পালিয়েছে দালালরা। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরের টয়লেটগুলোও নির্মাণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের। মায়েদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক মানের ‘ব্রেস্ট ফিডিং জোন’। ঝকঝকে, পরিচ্ছন্ন বিমানবন্দরের পুরো অভ্যন্তরই এখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বহিরাগতদের ভিতরে প্রবেশে রয়েছে কঠোরতা। এদিকে বর্তমানে ওসমানী বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আগের চেয়ে অনেক উন্নত। আগে সব যাত্রীর লাগেজ চেক করা না হতো না। এখন স্ক্যানিং ছাড়া কোনো যাত্রীর লাগেজই বিমানবন্দরের বাইরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে মালামাল আনার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ওসমানী বিমানবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার খায়রুল বাশার।




up-arrow