Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৪৩
প্রকৃতি
পাহাড়ে নার্সারি করে স্বাবলম্বী
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
পাহাড়ে নার্সারি  করে স্বাবলম্বী

পাহাড়ে নার্সারি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন আবদুল হালিম। খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ির মোহাম্মদপুর গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে আবদুল হালিম।

অভাব-অনটনের সংসারে পড়ালেখা করা হয়নি তার। খুঁজতে থাকে স্বাবলম্বী হওয়ার উপায়। অবশেষে কৃষি নার্সারির প্রতি ঝুঁকে পড়ে। জেলার বিভিন্ন নার্সারিতে গিয়ে নিবিড়ভাবে গাছে ‘কলম’ তৈরির ওপর বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন গাছের ‘কলম’ করতে করতে তিনি এখন ‘কলম’ তৈরির একজন দক্ষ কারিগর। গাউছিয়া নার্সারির মালিক তিনি। পানছড়ি টিঅ্যান্ডটি টিলায় নার্সারিতে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে কথা হয় হালিমের সঙ্গে। তিনি জানান, পানছড়ি হর্টিকালচারে প্রশিক্ষণ নিয়ে তার নার্সারি জগতে পথ চলা শুরু। বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে নার্সারির কাজ শুরু করেন। প্রথম পর্যায়ে এক একর ভূমিতে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে ৫ একর ভূমিতে নার্সারির চারা-কলমের কাজ চলছে। বিভিন্ন হাটে হালিমের চারা-কলমের চাহিদা ব্যাপক। তার নার্সারিতে রয়েছে আম্রপালি, ফজলি, বার্মিজ, বারি ফোর, রত্না, ব্যানানা ম্যাংগো, লিচু চায়না-টু, চায়না-থ্রি, মাল্টা, কমলা, লেবু, জাম্বুরা, সফেদা, আপেল কুল, বাউ কুলসহ নানান জাতের ফলের চারা-কলম। ২০১৩ সালে হালিমের নার্সারিটি সরকারিভাবে রেজিস্ট্রেশন লাভের মধ্য দিয়ে সবার কাছে ব্যাপক পরিচিতি পায়। কৃষি বিভাগের কৃষিমেলায় অংশ নিয়ে হালিম দফায় দফায় পুরস্কৃত হন। তিনি জানান, বর্তমান তার নার্সারিতে বিভিন্ন জাতের ৭ লাখ টাকার চারা গাছ আছে। হালিমের বয়োবৃদ্ধ বাবা এরশাদ আলী জানান, ঝড়-বৃষ্টিতেও আমার ছেলে নার্সারি নিয়ে দিন-রাত ব্যস্ত থাকে। ছেলের নার্সারির আয় দিয়ে আমাদের সংসার খুব ভালোভাবে চলছে।

পানছড়ির উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মানিক মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান, হালিম তার শ্রম, ধৈর্য ও মেধা দিয়েই আজ পাহাড়ের সফল ‘কলমচাষি’ হিসেবে স্বীকৃত। তার চারা-কলমের গুণগত মানও বেশ ভালো। নার্সারি করে জীবনে স্বাবলম্বী হওয়া যায় তার উদাহরণ হচ্ছে হালিম।

up-arrow