Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ২০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ জুন, ২০১৬ ০০:০৩
বাজেটের আকার সমস্যা নয়, বাস্তবায়নই বড় : সিপিডি
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার কোনো সমস্যা নয়, বরং বাজেট বাস্তবায়নই বড় কথা বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি’। দেশের রপ্তানি খাত, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার, খাদপণ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ও তেলের মূল্য বাজেট জোনে (সহায়ক অবস্থানে) আছে উল্লেখ করে সিপিডি বলেছে, বাজেট বাস্তবায়নে করফাঁকি উদঘাটন ও সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ [পেছনের পৃষ্ঠার পর] এনফোর্সমেন্ট দরকার বলেও মনে করে সিপিডি। গতকাল গুলশানের লেকশোর হোটেলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি’ আয়োজিত ‘সিপিডি বাজেট সংলাপ-২০১৬ : জাতীয় বাজেট ২০১৫-১৬ বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করে এসব কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান। সিপিডি ট্রাস্টি ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডি’র বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন—এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ, সাবেক বাণিজ্য সচিব সোয়েব আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি—বিজিএমইএ সহসভাপতি ফারুক হাসান প্রমুখ। এ ছাড়াও বাজেট নিয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।

ওই সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে দেশ অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। যা কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে মিলানো যাবে না। একই সঙ্গে দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধিত বাংলাদেশের অগ্রগতি অসাধারণ।

মন্ত্রী বলেন, আমরা ঠিক জায়গায় আছি, আমাদের প্রত্যাশিত স্বপ্ন ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে পৌঁছাবে বাংলাদেশ। এবারের বাজেটের মূল বিষয় মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জন। বাজেটে ৭ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বড় হলেও অর্জন সম্ভব উল্লেখ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে রাজস্ব আদায়ে ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তাই এবারও বাজেটে প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যারা অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের কথা বলছেন, তাদের বক্তব্য সঠিক নয়। কারণ অর্থনীতির বেশিরভাগ সূচক হয় স্থিতিশীল, না সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। সিপিডির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংগঠনটি বিপরীতমুখী কথা বলছে। একবার তারা বলছে, জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায় কম। আবার রাজস্ব আদায়ের জন্য ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে চাইলে তারা এর বিরোধিতা করছে। এ অবস্থায় সরকার কীভাবে রাজস্ব আদায় বাড়াবে। তিনি বলেন, ভ্যাট আইন তৈরির সময় সবার অংশগ্রহণ ছিল। সিপিডিসহ সবাই বলছে, এটি অত্যন্ত সুন্দর এবং কার্যকর আইন। কিন্তু আইনটি বাস্তবায়নের সময় বিরোধিতা আসছে। আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও বলেন, দেশে বিনিয়োগ কমছে, এটি সঠিক নয়। কারণ বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ২৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। সিঙ্গাপুরে তা ২৫ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বিনিয়োগে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, প্রতি বছরই জিডিপির আকার বাড়ছে। ফলে বিনিয়োগও বাড়ছে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মসংস্থানও আনুপাতিক হারে বাড়ছে। এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। তিনি বলেন, আমাদের অর্জনের অন্যতম হলো মূল্যস্ফীতি। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ শতাংশ। সর্বশেষ রিপোর্টে তা ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী অর্থবছরে তা ৫ দশমিক ৮ শতাংশে রাখার কথা বলা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান বলেন, বিএনপি নেতা (সাবেক বাণিজ্য সচিব ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী) যা বলেছেন, এ ব্যাপারে আমার তেমন কোনো বক্তব্য নেই। কারণ বর্তমান সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় বিএনপির কোনো অবস্থান নেই। এক কথায় বিএনপি কোনো দলই না। তিনি বলেন, নির্বাচনের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। এর যৌক্তিকতা রয়েছে। কারণ নির্বাচন কমিশনই টাকা বরাদ্দ চায়। সেক্ষেত্রে আগামী এক বছরে, যেহেতু তাদের কোনো নির্বাচন নেই, ফলে বরাদ্দ কমবেই। রাস্তা নির্মাণের ব্যাপারে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়। তা হলো আমাদের দেশে রাস্তা নির্মাণ করতে হলে জমি অধিগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চীন ও ভারতে ফ্রি জমি পাওয়া যায়।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, বাজেটে কয়েকটি বিষয় সংস্কার করা জরুরি। এর মধ্যে বাজেট তৈরিতে সংসদীয় কমিটির আরও সম্পৃক্ত হওয়া উচিত।

পাশাপাশি বাজেট নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে আরও সময় দিতে হবে। না হলে বাজেটের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো যাবে না।

up-arrow