Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ২০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ জুন, ২০১৬ ০০:০৫
গুপ্তহত্যার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী মানববন্ধন
গণপ্রতিরোধ সপ্তাহ ঘোষণা ১৪ দলের
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশব্যাপী গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে আগামী ১৫ জুলাই থেকে ২১ জুলাই ‘গণপ্রতিরোধ সপ্তাহ’ পালন করবে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। গতকাল বিকালে ১৪ দল আয়োজিত মানববন্ধন শেষে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চলমান হত্যা-সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও গুপ্তহত্যার জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দায়ী। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত জোটের পেট্রলবোমা-মানুষ হত্যা বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি, এখন গুপ্তহত্যাও বন্ধ হবে। এ জন্য দেশবাসীকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান তারা। গুপ্তহত্যা বন্ধে খালেদা জিয়ার ঐক্যের ডাকের সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা বলেন, গুপ্তহত্যাকারী, অর্থদাতা, প্রশ্রয়দাতার সঙ্গে ঐক্য নয়, আগে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। সারা দেশে গুপ্তহত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে গতকাল বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। রাজধানীতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার পথে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন জোটের নেতা-কর্মীরা। এই মানববন্ধনের কারণে ঢাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ইফতারের আগে ঘরমুখো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সামনে মানববন্ধনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, জাসদের (ইনু) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার, আওয়ামী লীগের আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ। আসাদগেটের সামনে বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ ১৪ দলের নেতারা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছাড়াও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট এলায়েন্সের (বিএনএ) আহ্বায়ক ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন জোটের নেতারা অংশ নেন। রাসেল স্কোয়ারে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সতীশ চন্দ্র রায়, দিপু মনি, আবদুর রাজ্জাক, আহমদ হোসেন, আবদুস সোবহান গোলাপ, আবদুর রহমান, এস এম কামাল হোসেন, সাদেক খান, আশরাফুন্নেছা মোশাররফ, অপু উকিল, বদিউজ্জামান সোহাগ প্রমুখ। রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে যুবলীগ। সেখানে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী, হারুনুর রশিদ, ফারুক হোসেন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, আতাউর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম, মঞ্জুর আলম শাহীন, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম প্রমুখ। শাহবাগ মোড়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে সাইফুর রহমান সোহাগ ও জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে নাসিম বলেন, দেশব্যাপী সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও গুপ্তহত্যার জন্য আপনি দায়ী। তিনি বলেন, আপনি আলোচনা চান, অবশ্যই আমরা আলোচনা চাই। কিন্তু এর আগে আপনি ঘোষণা করেন, জামায়াতের সঙ্গে আপনাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এক লাখ আলেম ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফতোয়া দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের জঙ্গি তত্পরতা ইসলামে নিষিদ্ধ ও হারাম। কিন্তু খালেদা জিয়া জঙ্গিদের আড়াল করার জন্য প্রত্যেক দিন ইফতার পার্টিতে বক্তৃতায় আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করে বক্তৃতা করে মূলত জঙ্গি সন্ত্রাসীদের পক্ষ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া আপনি ভুলে গেছেন, আপনার সময় আপনি কী করেছিলেন? এখন আপনি শেখ হাসিনাকে হুমকি দেন! বাংলার মানুষ আপনাকে প্রতিরোধ করবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত তলে তলে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। এরা অনেক শক্তিশালী। নীরব কর্মসূচি দিয়ে বা জুঁইফুলের ঘ্রাণ দিয়ে নয় বরং অ্যাকশনধর্মী কর্মসূচি দিয়ে গুপ্তহত্যা জঙ্গিবাদ পরাস্ত করতে হবে। রাশেদ খান মেনন বলেন, বেছে বেছে সংখ্যালঘু ও দুর্বল চিত্তের লোকজনকে হত্যা করা হচ্ছে। দেশে সাম্প্রদায়িক আবহ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হতে হবে।

up-arrow