Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ২০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ২০ জুন, ২০১৬ ০০:০৬
ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট
প্রথম চালান তিন দিন পর ত্রিপুরায়
মোশাররফ হোসেন বেলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

তিন দিন পর গতকাল রবিবার ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্যের প্রথম চালান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় পৌঁছেছে। দুপুর দেড়টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নদী বন্দর থেকে ৮৪ মেট্রিক টন রড নিয়ে একটি ট্রেইলর ও ৩টি ট্রাকে করে আখাউড়া স্থলবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি আনুষ্ঠানিক টান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম উদ্বোধন করলেও জাহাজ থেকে পণ্য খালাস না হওয়া, কাগজপত্র প্রক্রিয়া এবং ট্রাক জটিলতার কারণে দুদিন পর গতকাল রবিবার দুপুরে কাস্টমসের ছাড়পত্র শেষে একটি ট্রেইলর ও ৩টি ট্রাকে পণ্য আনলোড শেষে আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। বিকাল সাড়ে ৩টা নাগাদ আখাউড়া স্থলবন্দরে এসব মালামাল পৌঁছে। আখাউড়া স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান মেসার্স খলিফা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাকজিল খলিফা কাজল ভারতের দায়িত্বে থাকা ডারসেল লজিস্টিক লিমিটেডের ম্যানেজার সজিত রায়ের কাছে পণ্যের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেন। এ সময় দুদেশের কাস্টমস কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বিকাল প্রায় ৫টায় ট্রান্সশিপমেন্টের চালান আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় গিয়ে পৌঁছে বলে জানান কলকাতা থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় মালামাল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনবিস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের প্রতিনিধি হাজী মো. আনিছুর রহমান। বিআইডব্লিউটির আশুগঞ্জ নৌবন্দরের পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। পণ্য জাহাজ থেকে পুরোপুরি খালাস না হওয়ায় এবং কাগজপত্র ও ট্রাক নির্ধারণ না হওয়ায় পণ্য পরিবহন কার্যক্রম শুরু হতে তিন দিন সময় লেগেছে। রবিবার কাস্টমসের ছাড়পত্র শেষে সব প্রক্রিয়া শেষ করে দুপুরে ত্রিপুরার উদ্দেশে পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে। ৮৪ মেট্রিক টনের মধ্যে একটি ট্রেইলরে ৩০ মেট্রিক টন ও প্রতিটি ট্রাকে ১৮ মেট্রিক টন করে ৩টি ট্রাকে ৫৪ মেট্রিক টন পণ্য ভারতে গেছে। উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দরের ওয়্যারহাউসে আয়োজিত ভারত-বাংলাদেশ নৌ প্রটোকলের (পিআইডব্লিউটিটি) আওতায়  ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা প্রমুখ। এর আগে বুধবার বিকালে ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির আওতায় ভারতীয় ১ হাজার ৪ মেট্রিক টন লৌহজাত পণ্যবাহী এমভি নিউটেক-৬ জাহাজটি আশুগঞ্জ নৌবন্দরে নোঙর করে। ভারতীয় এই পণ্য পরিবহনের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আনবিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতীয় এসব পণ্য পরিবহনে প্রতি টনে ১৯২ টাকা ২২ পয়সা হারে মাশুল আদায় করা হবে। এ ছাড়া ভয়েজ পারমিশন ফি, পাইলট ফি, বার্দিং (অবস্থান) ফি, ল্যান্ডিং ফি, চ্যানেল চার্জ ও লেবার হোলিং চার্জসহ জাহাজটি থেকে বাংলাদেশ পাবে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। এর আগে দুদফায় বিনা মাশুলে বিশেষ মানবিক কারণ দেখিয়ে ভারতের পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারী যন্ত্রাংশ, কেমিক্যাল পদার্থ ও খাদ্য পণ্য চাল ত্রিপুরা রাজ্যে ট্রান্সশিপমেন্ট করা হয়েছে। এবারই প্রথম মাশুল দিয়ে এক হাজার ৪ মেট্রিক টন লৌহজাত পণ্য আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় নেওয়া হচ্ছে।




up-arrow