Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুন, ২০১৬ ০২:২১
হঠাৎ খুনোখুনি চট্টগ্রামে
সন্ধ্যার পর দুই ঘণ্টায় তিন যুবককে কুপিয়ে হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে মাত্র দুই ঘণ্টায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে তিন যুবক খুন হয়েছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নগরের পোস্তারপাড় এলাকায় খুন হন এক পোশাককর্মী।

এর দুই ঘণ্টা পর হামজারবাগ এলাকার এম নাজের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আরও এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। প্রায় একই সময়ে ৫০০ গজ দূরে আমিন কলোনির আনসার ক্যাম্পের পাশের মাঠে খুন হন আরও একজন। পাঁচলাইশের ওই বিদ্যালয় মাঠ থেকে আনসার ক্যাম্পের দূরত্ব ৫০০ গজ।

নিহত তিনজন হলেন পোশাককর্মী মো. সাগর (২৩), কারখানার শ্রমিক মো. ইয়াছিন (১৮) ও মিজানুর রহমান (১৮)। মিজানুরের পেশা কী তা জানা যায়নি।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ হামজারবাগের এম নাজের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বলেন, একই ঘটনার জেরে দুই তরুণ খুনের ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন, কী কারণে দুই তরুণকে খুন করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন মসজিদে নামাজ পড়ছিলেন। আবুল কালাম  নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, নামাজ শুরু হওয়ার সময় এম নাজের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠে এক যুবককে কয়েকজন যুবক মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান যুবকরা। লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, মিজানকে এম নাজের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এবং ইয়াছিনকে আনসার ক্যাম্পের পাশের মাঠে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। গত রাত ১০টায় আমিন কলোনির আনসার ক্যাম্পের পাশের মাঠে গিয়ে ছোপ ছোপ রক্ত দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন জানান, লাশ পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ইয়াছিনের মা রেহানা বেগম বলেন, তার ছেলে ইফতার করে হামজারবাগ এলাকার বাসা থেকে বের হন। লোকজনের কাছে শুনতে পারেন, তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির তত্ত্বাবধায়ক এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে হামজারবাগ এলাকা থেকে একজন ও রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমিন কলোনি থেকে একজনের লাশ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের দুজনের পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় খুন হন পোশাককর্মী সাগর। সাগরের বাবা শফিয়াল হক বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। তাকে কারা মেরেছে জানি না। আমি কার নামে মামলা করব?’ সাগর পরিবারের সঙ্গে নগরের টাইগার পাস এলাকায় থাকতেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow