Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ২১ জুন, ২০১৬ ২৩:২৫
শেয়ারবাজারে নতুন কারসাজি
বোনাসের নামে হাতানো হচ্ছে মূলধন
আলী রিয়াজ
শেয়ারবাজারে নতুন কারসাজি

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ব্যবহূত না করেই বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বাড়াচ্ছে কোম্পানিগুলো। বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নতুন করে টাকা নিতে কোম্পানিগুলো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। আইপিওর অর্থ ব্যবহার না হতেই বোনাস শেয়ারের নামে নতুন কারসাজি করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে মূলধন বাড়ানো হলে কোম্পানি থেকে কোনো ধরনের ক্যাশ আউট ফ্লো হয় না। কিন্তু নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হলে ক্যাশ আউট ফ্লো হয়। মূলত সমূদয় আয়ই কোম্পানিতে রেখে দেওয়ার কৌশল হিসেবে বোনাস শেয়ার ইস্যু করছে কোম্পানিগুলো। এতে কোম্পানির মূলধন বাড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সে হারে কোম্পানিগুলোর আয়ের প্রবৃদ্ধি হয় না। এতে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ও সম্পদমূল্য কমে যায় এবং ভবিষ্যতে কোম্পানির লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতাও কমে যায়। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, এসব কোম্পানি শুধু বোনাস শেয়ার দিয়ে মূলধন বাড়াচ্ছে, কিন্তু এতে ব্যবসায় উন্নতি হয় না। বোনাস শেয়ার দেওয়ার পরের বছর গিয়ে কোম্পানিগুলোর ইপিএস কমে যায়, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা লোকসানের কবলে পড়েন। তাই আইপিওর টাকা ব্যবহার না হতে বোনাস শেয়ার প্রদানে নিষেধাজ্ঞা অথবা উদ্যোক্তাদের বোনাস শেয়ার বিক্রয়ে লক ইন চালু করা প্রয়োজন। জানা গেছে, সম্প্রতি আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করার পর বোনাস শেয়ার ইস্যু করে যেসব কোম্পানি মূলধন বাড়িয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রিজেন্ট টেক্সটাইল, আমান ফিড, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, শাশা ডেনিমস, ইফাদ অটোস।

রিজেন্ট টেক্সটাইল : কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আইপিওর মাধ্যমে ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর এই টাকা পায়। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী কোম্পানিটি এই টাকা ১৮ মাসে ব্যবহার করবে। কিন্তু কোম্পানিটি সেই টাকা ব্যবহার না করতেই সাড়ে চার মাসের মাথায় ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ইস্যুর ঘোষণা দেয়।

অলিম্পিক এক্সেসরিজ : কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে ১০ টাকা দরে ২ কোটি শেয়ার ইস্যু করে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। মেশিনারিজ ক্রয়, ভবন নির্মাণ ও আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করতে পুঁজিবাজার থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করে। এই কোম্পানিটিও আইপিওর অর্থ ব্যবহার না করেই তিন মাস না যেতেই ২০১৫ সালের ২৭ অক্টোবর ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার প্রদানের ঘোষণা দেয়।

তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ : কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের জন্য গত বছরের ১৭ জুন অনুমোদন পায়। সংগৃহীত অর্থ ১৪ মাসের মধ্যে ব্যবহার করার কথা। কিন্তু কোম্পানিটি সেই টাকা ব্যবহার না করতেই ১৭ জুন ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার প্রদানের ঘোষণা দেয়।

আমান ফিড : কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণ ও ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে আইপিওর মাধ্যমে ৭২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই টাকা ব্যবহারের জন্য ১৫ মাস সময় নেয়। কিন্তু দুই মাসের মাথায় ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ইস্যুর ঘোষণা দেয়।

শাশা ডেনিমস : ২০১৫ সালের ৫ মার্চ ১৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, ব্যবসায় সম্প্রসারণ ও আইপিও খাতে ১৮ মাসে ব্যয় করার অনুমতি নিলেও ১২ এপ্রিল ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার প্রদানের ঘোষণা দেয়।

ইফাদ অটোস : ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ৬৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করে ব্যবসায় সম্প্রসারণ, ব্যাংক লোন পরিশোধ করতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে বলে জানায়। ১২ মাসের মধ্যে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে ২৬ অক্টোবর ফের ৩০ শতাংশ বোনাস শেয়ার প্রদানের ঘোষণা দেয়।




up-arrow