Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ জুন, ২০১৬ ২৩:৪০
অভ্যন্তরীণ ১৪ বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ কী
রুহুল আমিন রাসেল
অভ্যন্তরীণ ১৪ বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ কী

দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলো অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে বছরের পর বছর। শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটনশিল্পের জন্য সম্ভাবনাময় বেশ কিছু বিমানবন্দরের নাম এখন অনেকের কাছে অজানা। তবে আশার কথা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দেশের প্রাচীন বিমানবন্দর শমশেরনগর, ঠাকুরগাঁও ও ঈশ্বরদী ফের চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর পায়রা বন্দর চালু হলে পটুয়াখালী বিমানন্দরেও উড়বে উড়োজাহাজ। বাকি বিমানবন্দরগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে তা এখনো স্থির করা হয়নি। বাংলাদেশ বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ—বেবিচকের তথ্য বলছে, দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক ও ১২টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর রয়েছে। এই অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর রয়েছে চলমান থাকা পাঁচটি— কক্সবাজার, রাজশাহী, যশোর, সৈয়দপুর ও বরিশাল। জরুরি অবতরণের জন্য থাকা তিনটি বিমানবন্দর হলো— তেজগাঁও, বগুড়া ও শমশেরনগর। তবে এ তিনটি বিমানবন্দরের মধ্যে বগুড়া ও শমশেরনগর বন্ধ রয়েছে। আর সেবা না থাকা তিনটি বিমানবন্দর— ঈশ্বরদী, কুমিল্লা ও ঠাকুরগাঁও। এর পাশাপাশি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী বাগেরহাটে খানজাহান আলী বিমানবন্দর বর্তমানে নির্মাণাধীন। তবে জানা গেছে, বেবিচকের তালিকার বাইরেও দেশে বন্ধ থাকা অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর— রংপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কিশোরগঞ্জ, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, রসুলপুর ও সন্দ্বীপ। সব মিলিয়ে বন্ধ থাকা এ ১৪টি বিমানবন্দরের কী হবে, এ প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ঠাকুরগাঁও, শমশেরনগর ও ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ জড়িত-অভিজ্ঞ সাউথ এশিয়ান ট্যুরিজম ফেডারেশনের সভাপতি ও ইট্রারকো গ্রুপের চেয়ারম্যান এইচ এম হাকিম আলী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশের অধিকাংশ পর্যটন এলাকা ও এর আশপাশে অযত্ন-অবহেলায় অনেক বিমানবন্দর পড়ে আছে। এগুলো একটু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে চালু করলে দেশের পর্যটনশিল্প অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যটনশিল্পে নেপালের উদাহরণ দিয়ে সরকারের উদেশে তিনি বলেন, নেপালের অনেক বিমানবন্দরে ছোট ছোট উড়োজাহাজ ওঠানামা করছে শুধু পর্যটনশিল্প ঘিরে। তেমনিভাবে আমাদের অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো চালু করে পর্যটনকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। প্রত্যাশিত অবকাঠামো হলে পর্যটনশিল্প ঘিরে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে আরেক ধাপ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। ঠাকুরগাঁও : দেশের পুরনো বিমানবন্দরগুলোর একটি ঠাকুরগাঁও। ১৯৮৪ সালে এ বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান ঘোষণা দেন, এ বছরের মধ্যেই ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করা হবে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী-ঘোষিত ২০১৬ সাল পর্যটন বছরের মধ্যেই এ বিমানবন্দরটি চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে। ঈশ্বরদী : এটিও একটি পুরনো বিমানবন্দর। ১৯৯৬ সালে বন্ধ করার পর ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর আবার চালু হয়। পরে আবার ২০১৪ সালের ২৫ মে থেকে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে। এ এলাকায় রয়েছে ইপিজেড, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বিমানের অভাবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং বায়ার এখানে আসতে আগ্রহ দেখান না। বিমানবন্দরটি চালু না থাকায় পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে পারছে না ইপিজেড। জানা গেছে, ১৯৬০ সালে ৪১২ একর জমির ওপর ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। ’৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ’৭২ সালে বিমানবন্দরটি ফের চালু হয়। এরপর লোকসানসহ নানা অজুহাতে ’৮৭ সালে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। শমশেরনগর : ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় অভিযান চালানোর জন্য ব্রিটিশ শাসকরা মৌলভীবাজারের শমশেরনগর চা বাগানের ৬২২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে এ বিমানবন্দর গড়ে তোলে। বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ফুট ও প্রস্থ ৭৫ ফুট। সে সময় এর নাম রাখা হয় ‘দিলজান বন্দর’। ’৪৭-এর পর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘শমশেরনগর বিমানবন্দর’। প্রশস্ত রানওয়ে, বিশাল পরিসর, উন্নত যাতায়াতব্যবস্থা ও সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি শমশেরনগর বিমানবন্দর। ’৭৫ সালে এখানে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ ইউনিট খোলা হয়। এর পর থেকে এখানে প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টার ওঠানামা করছে। কুমিল্লা : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত কুমিল্লা বিমানবন্দর থেকে ১৯৭৬ সালের আগ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল করেছিল। কিন্তু ’৮৬ সালের পর বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ৩৮ বছরেও চালু হয়নি। ৭৭ একর ভূমির ওপর প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিমানবন্দর এখন আন্তর্জাতিক রুটে সিগন্যালিংয়ের কাজ করে। এখন এ বন্দরটি ভারতের কলকাতা-আগরতলা ফ্লাইটগুলোর নেভিগেশন সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। জানা গেছে, এ বিমানবন্দর চালু হলে ২০ মিনিটেই ঢাকা-কুমিল্লা যাতায়াত করা সম্ভব হবে। বিমানবন্দরটি চালু করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি কোম্পানিকে কুমিল্লায় পাইলট ট্রেনিং স্কুল করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফেনী : ১৯৩৮ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জাপানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিমানবন্দরটি নির্মাণ করে ব্রিটিশ সরকার। ফেনী শহরের উত্তরাংশের সুলতানপুর, বারাহিপুর, মজলিশপুর, বিরিঞ্চি, ধর্মপুর ও দেবীপুরের প্রায় সাড়ে তিনশ একর ভূমির ওপর এটি গড়ে তোলা হয়। এখান থেকে ব্রিটিশ বাহিনীর বিমান বোমা বর্ষণ করতে যেত জাপানে। জাপানের বিমান আক্রমণ থেকে কুমিল্লায় অবস্থিত ব্রিটিশ সেনানিবাসের প্রতিরক্ষা কাজে এ বিমানঘাঁটি ব্যবহৃত হতো। বিমানবন্দরের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়িসহ ব্যক্তিমালিকানাধীন নানা স্থাপনা। আবার বিমানবন্দরের রানওয়ের ওপর সরকারিভাবে গড়ে উঠেছে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ। চোরেরা অবশ্য এর আগেই বিশাল রানওয়ের ইট তুলে নিয়ে যায়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow