Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ জুন, ২০১৬ ০২:১৬
ইফতার
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন জামে মসজিদে ইফতার বিতরণ
বাদল নূর
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন জামে মসজিদে ইফতার বিতরণ

রাজধানীর কমলাপুরে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রায় পাঁচ বছর ধরে পথচারী, ফকির, মিসকিন, রিকশাচালক, কুলি, দিনমজুরের মধ্যে ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ রোজাদারের মধ্যে ইফতার বিতরণ করা হয়।

ইফতার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ছোলা, মুড়ি, পিয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, আম, কাঁঠাল, খেজুর ও শরবত। মসজিদ কমিটির প্রস্তাবিত সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল বলেন, মসজিদ কমিটির নিজস্ব টাকা দিয়ে ইফতারের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, অনেক যাত্রী এবং পথচারী এ মসজিদে এসে ইফতার করতে পারে।    মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারা প্রতি বছর ইফতারির আয়োজন করে থাকেন। ইফতার বিতরণের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ১০-১৫ জন খাদেম। ইফতার করতে আসা সবাই পেট ভরে খেতে পারেন। তবে ভিন্ন চিত্রও দেখা যায়। স্টেশনের বিভিন্ন স্থানে বসে বয়স্ক মহিলা ও পুরুষ ভিক্ষা করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আক্ষেপ করে বলেন, অনেক মসজিদে ইফতারি বেঁচে যায় খাওয়ার মানুষ থাকে না, আর কমলাপুর রেলস্টেশনের ভিক্ষুক, ফকির, মিসকিনরা না খেয়ে থাকে। তারা পথ চেয়ে থাকেন কোনো ব্যক্তি হয় তো তাদের ইফতারি অথবা টাকা-পয়সা দিয়ে যাবেন। কখনো তাদের ভাগ্যে খাবার জোটে। আবার কখনো শুধু পানি খেয়ে ইফতার করতে হয় তাদের। আবদুল গফুর মিয়া, বাড়ি ঝালকাঠি। দীর্ঘদিন ধরে কমলাপুর রেলস্টেশনে থাকেন। স্টেশনকেই নিজের বাড়ি-ঘর বলে মনে করেন। গতকাল আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মানুষের সাহায্য নিয়েই তিনি বেঁচে আছেন। যেদিন সাহায্য পান খাওয়া হয়। আর না পেলে না খেয়ে থাকতে হয়। আলেক নামে এক বৃদ্ধা জানান, তিন বছর ধরে স্টেশনে আছেন। কেউ কিছু দিলে ইফতার করবেন। না দিলে পানি খেয়ে থাকবেন। জামেলা বেগম, বাড়ি নোয়াখালী। প্রায় ১৩ বছর ধরে স্টেশনে আছেন। উপার্জনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন আছেন। মহিলা বলে ইফতারির জন্য মসজিদে যেতে পারেন না। তাই ভিক্ষার টাকা দিয়েই ইফতার কিনতে হয়। মনির খান নামের এক ভিক্ষুক বলেন, ইফতার না পেলে কয়েকজন মিলে ইফতার কিনে খান। কথা হয় জামালপুরের রোজি, নান্দাইলের খাদিজাসহ বেশকিছু ফকির ও মিসকিনের সঙ্গে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জীবিকার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের। বেঁচে থাকার এই যুদ্ধে কখনো কখনো তাদের পুলিশের মার খেতে হয়। পুলিশ তাদের স্টেশনে বসতে দেয় না বলে জানান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow