Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ জুন, ২০১৬ ২৩:১৭
রাজধানীতে মেয়েরা জিম্মি দশায়
ব্যক্তি উদ্যোগের ছাত্রী হোস্টেল
আকতারুজ্জামান

ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত রাজধানীর ছাত্রী হোস্টেলগুলোতে মেয়েরা জিম্মি দশায় জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হোস্টেল কর্তৃপক্ষ কারণে-অকারণে ভাড়া বৃদ্ধি, মিল চার্জ বৃদ্ধি, আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ফি বৃদ্ধি করাসহ নানা ক্ষেত্রে হয়রানি করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব হোস্টেলে গ্যাসের সংকট, পানির সংকট, নিম্নমানের খাবারে নাভিশ্বাস অবস্থা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী অনেকেই জানিয়েছেন, মাসের ৫ তারিখের মধ্যে ভাড়া ও অন্যান্য চার্জ পরিশোধ না করলেই নেমে আসে জরিমানার খড়গ। আর ২০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ না করতে পারলে মেস ছাড়ার নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাজধানীর বেশিরভাগ ছাত্রীনিবাসেই এমন অবস্থা চলছে। এ ছাড়া কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলগুলোতেও ভোগান্তির অন্ত নেই। মেস মালিকদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নীরবে সহ্য করতে হয় মহিলাদের। কোনো ঘটনায় প্রতিবাদ করলে ফল পাওয়া যায় না। তারা আরও জানান, সারাবছর ছাত্রী হোস্টেলগুলোতে মালিক কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত করে রাখলেও মে থেকে নভেম্বরে আরও ভয়াবহ অবস্থা করা হয়। কারণ এ সময় সারা দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় অথবা মেডিকেলে ভর্তির জন্য কোচিং করতে রাজধানীতে আসে। এসব ছাত্রীদের থাকার একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় ঢাকার বিভিন্ন ছাত্রী হোস্টেল। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগান হোস্টেল মালিকরা। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে নিবেদিকা ছাত্রী হোস্টেল। গ্রিনরোডে মোস্তফা রোডে নিবেদিকা ছাত্রীনিবাসের ব্রাঞ্চ রয়েছে তিনটি। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয় রোডের ১১৪ নম্বর বাসা থেকে। জানা গেছে, এ মাসের শুরুতে বিভিন্ন চার্জ ও ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রীনিবাস ইনচার্জের রুমের টেলিভিশন ও ফ্রিজ ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা। কাগজপত্রেও আগুন লাগিয়ে দেন। এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে ছাত্রীনিবাসের ইনচার্জ (মোস্তফা রোড, বাসা ১১৪) নিজেকে সুমি আক্তার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ফি চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়গুলো অস্বীকার করেছেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী রাজধানীর ফার্মগেট সংলগ্ন মনিপুরী পাড়া, গ্রিনরোড, পান্থপথসহ খামারবাড়ি, মিরপুর, আজিমপুর, কমলাপুরের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে ব্যক্তি উদ্যোগের ছাত্রী হোস্টেল। বিশেষ করে ফার্মগেট ও গ্রিনরোডে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার হওয়ায় ছাত্রীহোস্টেলগুলো বাসা ভাড়া নিয়ে জমজমাট মেস ব্যবসা করে যাচ্ছে। যার মধ্যে নিবেদিকা ছাত্রী হোস্টেল অন্যতম। এ ছাড়াও রয়েছে সাদীয়া ছাত্রী হোস্টেল, রঙ্গন ছাত্রী নিবাস, আপন ছাত্রী হোস্টেল, কর্ণফুলী ছাত্রী হোস্টেল, মা হোমস ছাত্রী হোস্টেল, উত্তরবঙ্গ ছাত্রী হোস্টেল, জুই ছাত্রী হোস্টেলসহ অন্তত দেড় শতাধিক ছাত্রী হোস্টেল। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এসব হোস্টেলগুলোতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা প্রচার করা হলেও বাস্তবে কিছুই মেলে না। মানসম্মত তিনবেলা খাবারের সুব্যবস্থার কথা থাকলেও নিম্নমানের খাবারে ছাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পানি, বিদ্যুতের সমস্যায়ও নাজেহাল তারা। পড়ালেখার সুন্দর পরিবেশ, প্রতিদিন মাছ-মাংস-ডিম খাওয়ানোর আশ্বাস, সার্বক্ষণিক আইপিএস’র সুবিধা, এক্সক্লুসিভ পরিবেশে থাকার সুবিধার কথা বলে টু-লেট টানানো হলেও ছাত্রীদের ওঠানোর পর এসবের তেমন কিছুই মেলে না। মুরিগর খোপের মতো খোপ খোপ ঘর, নোংরা পরিবেশ আর ছারপোকার সঙ্গে আপস করে থাকতে হয় ছাত্রীদের। এমনকি এসব খোপ ঘরের বারান্দাগুলোতেও হার্ডবোর্ড লাগিয়ে চৌকি বসিয়ে আরেকটি রুম বানিয়ে ছাত্রী থাকার ঘর বানানো হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, এসব ঘরের চারদিকে হার্ডবোর্ডের বেড়া থাকায় আলো প্রবেশেরও কোনো পথ থাকে না। ফলে দিনের সবটুকু সময় লাইট জালিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। উপায়ন্তর না থাকায় অসহায় মেয়েরা এভাবেই হোস্টেলগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow