Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২৫ জুন, ২০১৬ ২৩:১৯
মুখরিত বগুড়ার বেনারসি পল্লী
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
মুখরিত বগুড়ার বেনারসি পল্লী

সময় যেন দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আর তাই রাত-দিন এক করে রকমারি ডিজাইনের বেনারসি শাড়ি তৈরির কাজে মহাব্যস্ত পল্লীর কারিগররা। নারী-পুরুষের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় নানা রঙের সুতায় হয়ে ওঠে একেকটি আকর্ষণীয় শাড়ি। ঈদের চাহিদা মেটাতে উন্নতমানের এসব শাড়ি তৈরি হচ্ছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার     ঘোলাগাড়ী কলোনি গ্রামের বেনারসি পল্লীতে। ঢাকার মিরপুরের ব্যবসায়ীরা হলো ঘোলাগাড়ী কলোনিতে তৈরিকৃত বেনারশি শাড়ির প্রধান ক্রেতা। এ ছাড়া রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলায় এসব শাড়ি বিক্রি হয়ে থাকে। বগুড়া জেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বেনারসি পল্লী ঘোলাগাড়ী কলোনির অবস্থান। অবশ্য কেউ কেউ এই কলোনিকে আবার ঘোলাগাড়ী গ্রাম বলেও ডাকে। তবে আসলে কলোনি বা গ্রামটি বেনারসি পল্লী নামেই অধিক পরিচিত। সেই বেনারসি পল্লী এখন তাঁতের খটখট শব্দে মুখরিত। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ১৯৪৭ সালের কথা। দেশ বিভাগের পর ভারতের বিহার রাজ্য থেকে আবদুল ওয়াহেদের পরিবারের পূর্ব পুরুষরা অনেকের মতো ঘোলাগাড়ী কলোনিতে চলে আসেন। পরে পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এই আবদুল ওয়াহেদ জানান, ১৯৮০ সালে ঘোলাগাড়ী কলোনিতে তিনি প্রথম তাঁতের কাজ শুরু করেন। বেনারসি শাড়ি তৈরির জন্য তিনি ঢাকা থেকে ২টি তাঁত মেশিন কেনেন। ৩টি ধাপ মিলে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কারখানা গড়ে তুলতে সে সময় তার প্রায় ২০-২২ হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়। এরপর ঢাকা থেকে সুতা, জরি, কেলা, তানি, রং এনে শুরু করেন বেনারসি  তৈরির কাজ। আবদুল আহাদ, জাহেদ আলী, আবু সাঈদ, খোরশেদ আলমসহ একাধিক তাঁত শিল্পী জানান, এখন কথা বলার ফুসরত নেই। ঈদের অর্ডারের কাজ করতে তাদের চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবমিলে তারা বড্ড ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই ব্যস্ত সময়ের ফাঁকে ফাঁকে আলাপচারিতায় তারা জানান, তখনকার দিকে একেকটি শাড়ি তৈরিতে এক সপ্তাহের অধিক সময় লেগে যেত। কিন্তু এখন সেই আগের সময় নেই। কারণ তাদের কারখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ লেগেছে। এখন এই পল্লীর কারিগররা বিদ্যুতের আলোয় কাজ করেন। তিনজন কারিগরের সমন্বয়ে একেকটি পূর্ণাঙ্গ শাড়ি তৈরি করা হয়। এদিকে এই গ্রামের প্রতিটি পরিবারের নারীরাও কমবেশি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। রুমি খাতুন, সালমা আক্তার, জাহানারা বেগমসহ একাধিক নারী কারিগর জানান, অভাবের সংসারে সবাই মিলে পরিশ্রম করলে আয় বাড়ে। এতে অভাব অনেকটা কেটে যায়। তাই স্বামীর সঙ্গে তারাও নিজেকে এই পেশায় নিয়োজিত করেছেন। তারা আরও জানান, এই পল্লীর বেনারসি বুটিক, জামদানি, ব্রকেট, টাইটাকি পারআঁচল, কাতান, কাতান বুটিক, পাটি নামের বাহারি ডিজাইনের শাড়ি তৈরি করা হয়ে থাকে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow