Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ জুন, ২০১৬ ২২:৫৫
আমাদের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে
----------প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

মেট্রোরেল প্রকল্প ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের একটি স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। আমরা সমস্ত দেশজুড়েই সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, পাতাল সড়ক, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রেল, নৌ-সহ যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ দুটি কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-(এমআরটি) লাইন-৬’ ও ‘বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)’র উদ্বোধন উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে সুইচ টিপে মেট্রোরেল এবং মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রজেক্টের ফলক উন্মোচন করেন। পরে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ এন সিদ্দিক বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সব ধরনের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো টেকসই, নিরাপদ এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা। আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি অর্জনের মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার একের পর এক সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে। যেসব উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করে দেশের জনগণকে আমরা আরও সুন্দরভাবে চলাচলের সুযোগ করে দিতে সক্ষম হব। শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমাদের মূল লক্ষ্য দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। রাজধানীর যানজট হ্রাসে আমরা নির্মাণ করেছি ফ্লাইওভার ও রেলওয়ে ওভারপাস। ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য কয়েকটি সড়ক ও সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, চালু করা হয়েছে কমিউটার ট্রেন, বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ঢাকা মহানগরীর চারদিকে বৃত্তাকার সড়ক, রেল ও নৌপথ নির্মাণের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকায় বহু মানুষের বাস। কিন্তু সেই তুলনায় সড়কের অভাব আছে। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে অনেক মানুষের যাতায়াত সহজ করার জন্য কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার নগরবাসীর যাতায়াত সহজ করতে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছে এবং নিচ্ছে। রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার এলিভেটেড মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। উত্তরা ৩য় পর্ব থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ২০১৯ সালে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০২০ সালে মেট্রোরেল চলবে। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সড়ক পরিবহন ও সেতমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন যেন, ২০১৯ সালেই প্রকল্পটি আগারগাঁও নয়, ফার্মগেট পর্যন্ত সম্পন্ন হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের উদ্বোধন বিষয়ে ঈদের আগেই সুখবর পাওয়া যাবে বলে জানিয়ে বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কও চার লেন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ‘আমরা চাচ্ছি নতুন একটা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টও করে দিতে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানে বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন রচনার জায়গা। সেদিক থেকে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, সড়ক, নৌ ও আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে সরকার কাজ করছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা ও জনসাধারণের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করাসহ আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া, নেপাল (বিবিআইএন) মোটর ভেহিকেল এগ্রিমেন্ট এবং বাংলাদেশ, চীন, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার (বিসিআইএন) অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা শহরের পূর্ব-পশ্চিম অংশের সংযোগসহ একটি সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান হাল-নাগাদ করা হয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী এয়ারপোর্ট-খিলক্ষেত-বারিধারা-বাড্ডা-রামপুরা-মৌচাক হয়ে কমলাপুর এবং খিলক্ষেত-পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-১ এবং গাবতলী-টেকনিক্যাল-মিরপুর-১, ১০ ও ১৪ বনানী-গুলশান-২ হয়ে ভাটারা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-৫ এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে। এমআরটি লাইন-১ এ ৯ কিলোমিটার এবং এমআরটি লাইন-৫ এ ৬ কিলোমিটার মোট ১৫ কিলোমিটার পাতাল রেল নির্মিত হবে। এ দুটি লাইনের কাজ শেষ হলে নগরীর বেশির ভাগ স্থানেই দ্রুত, সহজ ও আরামদায়ক পরিবেশে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে। এতে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। অন্যদিকে যানজটের কারণে অপচয় হওয়া থেকে কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে।   সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দুটি প্রকল্প শেখ হাসিনা সরকারের সুসংবাদ। মেট্রোরেল ঢাকাবাসীর জন্য শুভ সংবাদ, বিআরটি গাজীপুরবাসীর জন্য শুভ সংবাদ। পদ্মা সেতুর কাজ নিজস্ব অর্থায়নে শুরু করে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন, যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে তিনি সক্ষম। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বলেন, যতদিন আপনার হাতে রবে দেশ, ততদিন পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

up-arrow