Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ জুন, ২০১৬ ২২:৫৭
এবার সুনামগঞ্জে আটক শুল্ক ফাঁকির গাড়ি
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সিলেট ও হবিগঞ্জের পর এবার সুনামগঞ্জ থেকে উদ্ধার হলো শুল্ক ফাঁকির কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি। শনিবার সিলেটের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একটি দল সুনামগঞ্জ সদরের হাজীপাড়ার এক ব্যবসায়ীর বাসায় অভিযান চালিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করে।

ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে বিআরটিএ থেকে ওই গাড়িটির রেজিস্ট্রেশনও করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কার্নেট সুবিধায় যুক্তরাজ্য থেকে আনা গাড়িটি প্রায় ছয় বছর ধরে দেশে চলাচল করছিল বলে শুল্ক গোয়েন্দারা জানিয়েছেন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জিয়াউদ্দিন মিয়াজী জানান, অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খানের কাছে গোপন সংবাদ ছিল সুনামগঞ্জে চলাচলকারী প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের লেক্সাস জিপ (সিলেট ঘ ১১-০৩০১) কার্নেট সুবিধা নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আনা হয়েছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে তিন সপ্তাহ ধরে গাড়িটির গতিবিধি ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আসছিলেন শুল্ক গোয়েন্দারা। অনুসন্ধানে শুল্ক গোয়েন্দারা জানতে পারেন, আরএক্স৩০০ মডেলের কালো রঙের লেক্সাস জিপটি রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেওয়ার সময় যে কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল তা সঠিক নয়। রেজিস্ট্রেশনের সময় সিলেট বিআরটিএ অফিসে দেখানো হয়, ২০১৪ সালের ২৯ মে জাপান থেকে গাড়িটি আমদানি (বিল অব এন্ট্রি সি-১১৪২৮৬) করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত জাল কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে শুল্ক গোয়েন্দারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রেজিস্ট্রেশনের সময় আমদানির যে কাগজপত্র জমা দেওয়া হয় তা একটি পোশাক রপ্তানিকারকের শিপমেন্টের। ওই শিপমেন্টে করে কোনো গাড়ি আমদানি করা হয়নি। এদিকে শুল্ক গোয়েন্দারা কার্নেট সুবিধায় নিয়ে আসা গাড়ির তালিকা যাচাই করে এটিকে শুল্ক ফাঁকির গাড়ি হিসেবে শনাক্ত করেন। গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন, ২০১০ সালে কার্নেট সুবিধা গ্রহণ করে গাড়িটি যুক্তরাজ্য থেকে জনৈক রূপা মিয়া (ব্রিটিশ পাসপোর্ট নম্বর-১০৮৭৯৩২০৩) দেশে নিয়ে আসেন। পরে তিনি গাড়িটি আর ফিরিয়ে নেননি। দুই বছর আগে ওই গাড়িটি সিলেটের এন কে করপোরেশন নামের একটি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান থেকে এক ব্যবসায়ী ৭৫ লাখ টাকায় কিনে নেন। শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মো. জিয়াউদ্দিন মিয়াজী জানান, এর আগে একইভাবে কার্নেট সুবিধা নিয়ে আনা কোটি টাকা মূল্যের দুটি গাড়ি সিলেট নগরীর মজুমদারি ও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়। সিলেটে চলাচলকারী শুল্ক ফাঁকির অন্য গাড়িগুলোও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

up-arrow