Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৪৩
হঠাৎ কঠিন চ্যালেঞ্জে পোশাকশিল্প
ব্রেক্সিটের প্রভাবে ফের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা -- ভারতের মতো সুবিধা না পেলে বাজার হারাবে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
হঠাৎ কঠিন চ্যালেঞ্জে পোশাকশিল্প

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প হঠাৎ দুই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ’র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট থেকে বেরিয়ে (ব্রেক্সিট) যাওয়ার পক্ষে জনগণের গণরায়ে যুক্তরাজ্যে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে পোশাক রপ্তানিতে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলতে ভারতীয় সরকারের বিশেষ প্যাকেজ অনুমোদন হওয়ায় বাজার হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অর্থনীতির বিশ্লেষক আর ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা হলো— ব্রেক্সিটের প্রভাব পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ায় ফের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা হতে পারে। তাত্ক্ষণিকভাবে গত ৩১ বছরের মধ্যে এই প্রথম মার্কিন ডলারের বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ১০ শতাংশ কমেছে। ইউরোর বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য ৭ শতাংশ কমায় বাংলাদেশি পোশাক পণ্য রপ্তানিতে দরপতন ও যুক্তরাজ্যের আমদানিকারকরা মূল্য কমাতে চাপ প্রয়োগ করতে পারেন। সব মিলিয়ে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বাজার সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ইএবি সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী।   তথ্যমতে, বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার যুক্তরাজ্য। এখানে প্রতিবছর বাংলাদেশ যে প্রায় ৩২০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে, তার মধ্যে অধিকাংশই তৈরি পোশাক পণ্য। এখন ইইউ থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে গেলে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারসহ রপ্তানিতে বর্তমানে পাওয়া সুবিধা দেশটিতে হারানোর আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, যুক্তরাজ্যের গণরায় কার্যকর হলে দেশটির সঙ্গে ফের সব ধরনের বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্য বন্ধন ছিন্ন করায় প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় বাংলাদেশ চাপে পড়বে। তবে বাংলাদেশ সাময়িক যে অসুবিধার মধ্যে পড়বে, তা উত্তরণে সরকারের উচিত হবে বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া।

পোশাকশিল্প উদ্যোক্তা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ব্রেক্সিট অপ্রত্যাশিত। ফলে ইতিমধ্যে পুরো ইউরোপের অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়েছে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা। এই ব্রেক্সিটের প্রভাব পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ায় ফের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা হতে পারে। পোশাকশিল্পে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য সদ্য ঘোষিত বিশেষ প্যাকেজ সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে পোশাক পণ্য রপ্তানিতে ভারত আমাদের বড় প্রতিযোগী দেশ। বড় বড় ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদের কর্মকর্তারাও ভারতীয়। এতে তাদের বাজার সম্প্রসারণে সুবিধা হবে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে টার্গেট করে ভারত তাদের উদ্যোক্তাদের যে সুবিধা দিল, এই সুবিধা আমাদের সরকার না দিলে ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রপ্তানি হবে না। বরং বাংলাদেশ বাজার হারাবে। ভারতের পোশাকশিল্প উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা হিসেবে বিশেষ প্যাকেজ অনুমোদন করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। পোশাক কারখানার যন্ত্রপাতি স্থাপনে ২৫ শতাংশ ভর্তুকি, কর সুবিধা প্রদানসহ বিশাল প্যাকেজ সুবিধা গত বুধবার ভারত সরকার অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। এই গণমাধ্যম গত ২৩ জুন ‘গার্মেন্ট শিল্পে বাংলাদেশকে হারাতে চায় ভারত’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেছে, আগামী তিন বছরের মধ্যে বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলতে চায় ভারত। ভারতের বিশেষ প্যাকেজের আওতায় যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি ও কর ফেরত দেওয়ার কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বোঝা চাপবে। তারপরও ভারতীয় পোশাকশিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সাহায্য করতে এই বাড়তি খরচ করতে পিছপা হবে না দেশটির সরকার। এক পরিসংখ্যান দিয়ে ভারত সরকার বলছে, ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আর ভিয়েতনাম থেকে পোশাক রপ্তানিতে ভারত এগিয়ে ছিল। তারপর থেকে ভারতের রপ্তানি কমতে থাকে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে সারা বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে চীন। তারপরই বাংলাদেশের অবস্থান।

up-arrow