Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ জুন, ২০১৬ ২৩:৪২
অর্ধেকে বোনাস হয়নি বেতন নিয়েও শঙ্কা
অল্প বোনাস নিতে বাধ্য করছে মালিক, দেওয়া হবে অর্ধেক বেতন
জিন্নাতুন নূর

ঈদের আগে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়া নিয়ে এক ধরনের উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। ঈদের আগে পুরো বোনাস ও বেতন পাবেন কিনা তা নিয়ে তারা এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না। শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা জানান, গতকাল (সোমবার) পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পোশাক কারখানায় বোনাস দেওয়া হয়েছে। আর ঈদের আগে অনেক কারখানা মালিক অর্ধেক বেতন দেবেন বলে শ্রমিকদের জানিয়েছেন। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মালিকরা তাদের খেয়াল-খুশি মতো ঈদ বোনাস দিচ্ছেন। অর্ধেক বেতন নেওয়ার জন্য রাজধানীর কিছু কারখানা মালিক শ্রমিকদের বাধ্য করছেন। আর এ জন্য তারা পুলিশ ও স্থানীয় মাস্তানদের ব্যবহার করছেন। তবে  পোশাক মালিকদের সংগঠন (বিজিএমইএ) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ গার্মেন্টেই বোনাস দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এখনো ঈদের বোনাস পাননি। কবে নাগাদ পাবেন তাও জানেন না। বেশ কয়েকটি কারখানা মালিক কর্তৃপক্ষ ঈদের দুই দিন আগে অর্ধেক বেতন দিতে পারেন বলে জানালেও বোনাসের ব্যাপারে কিছু বলেননি।

এ অবস্থায় বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে এখন এক ধরনের আশঙ্কা কাজ করছে। এবার ১৫ থেকে ২১ রোজার মধ্যে শ্রমিকদের বোনাস এবং আগামী মাসের শুরুতে চলতি মাসের বেতন দেওয়ার জন্য শ্রমিক, শ্রমিক নেতা ও পোশাক সংশ্লিষ্ট ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক কোর কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পরও সব শ্রমিক বোনাস পাননি।  

শ্রমিক নেতারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, গতকাল পর্যন্ত মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পোশাক কারখানায় বোনাস দেওয়া হয়েছে। তারা এও জানান, তাদের বোনাসের পুরো টাকা না দিয়ে মূল বেতনের মাত্র অর্ধেক বা তিন ভাগের এক ভাগ টাকা দেওয়া হচ্ছে। বড় কারখানাগুলো বোনাস দেওয়া শুরু করলেও ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো বোনাস ও বেতন নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করতে পারে বলে শ্রমিক নেতারা আশঙ্কা করছেন। এ অবস্থায় ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়া না হলে শ্রমিক সংগঠনগুলো কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারে। গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কারখানায় বোনাস দেওয়া হয়েছে। মালিকরা পুরো বোনাস না দিয়ে মূল বেতনের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ টাকা দিচ্ছেন। অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকদের চলতি মাসের পূর্ণাঙ্গ বেতন দেওয়া হবে না বলেও মালিকরা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা চাই না ঈদের আগে মালিকরা শ্রমিকদের আন্দোলনে যেতে বাধ্য করুক। পুরো পরিস্থিতি নিয়ে আজ (মঙ্গলবার) আমরা প্রেস কনফারেন্স করব। পুরো বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আমরা মানসিকভাবে উদ্বেগে আছি। শ্রমিকরা জানান, কিছু কারখানা থেকে তাদের জুনের পুরো মাসের বেতন না দিয়ে ১৫ থেকে ২০ দিনের বেতন দেওয়া হবে বলে জানানো হচ্ছে। তবে বোনাসের ব্যাপারে এখনো কিছু তাদের জানানো হয়নি। কথা হলে মিরপুর অ্যাপোলো গার্মেন্টের এক নারী শ্রমিক এই প্রতিবেদককে জানান, এখন পর্যন্ত আমাদের গার্মেন্টে বোনাস দেওয়া হয়নি। কারখানা থেকে জানানো হয়েছে ঈদের দুই দিন আগে বেতন দেওয়া হবে। কিন্তু পুরো নয়, অর্ধেক মাসের বেতন দেওয়া হবে। এই শ্রমিক আরও জানান, শ্রমিকরা সবাই খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন। ঈদের আগে চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পাচ্ছেন না। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে দক্ষিণখানের ২টি কারখানায় শ্রমিকরা অর্ধেক বোনাস নিতে না চাইলে তাদের পুলিশ ও স্থানীয় মাস্তানদের দিয়ে বোনাস নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। আমাদের তথ্য অনুযায়ী এখনো ৬০ শতাংশ কারখানায় বোনাস দেওয়া হয়নি। মালিকরা ঈদের আগে বোনাস দেবেন বলে আশ্বাস ঠিকই দিয়েছেন, কিন্তু আমরা আশঙ্কা করছি এবারও বেশ কয়েকটি কারখানা মালিক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস না দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেবেন বা লুকিয়ে থাকবেন। তিনি জানান, যে কারখানাগুলো নির্দিষ্ট সময়ের পরও বোনাস দেয়নি তাদের তালিকা তৈরি করছি। আগামী দুই দিনের মধ্যে এই তালিকা আমরা সরকার ও পোশাক মালিকদের সংগঠন (বিজিএমইএ) কর্তৃপক্ষকে দেব। তারা ব্যবস্থা না নিলে আমরা আন্দোলনে যাব। বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মন্তব্যের সঙ্গে আমি একমত নই। আমরা মনিটর করে দেখেছি যে, অধিকাংশ কারখানাই বোনাস দিয়েছে। তবে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কয়েকটি কারখানায় কিছু সমস্যা থাকতে পারে। আশা করছি এই কারখানাগুলো শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে শিগগিরই দ্রুত সিদ্ধান্তে আসবে। অর্ধেক বোনাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি কারখানাগুলো লাভ না করে তাহলে বোনাস কীভাবে দেবে। আমরা আগামী মাসের ২, ৩ ও ৪ তারিখে শ্রমিকদের বেতন দিয়ে গার্মেন্টের ছুটি দেব।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow