Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : বুধবার, ২৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ জুন, ২০১৬ ২৩:৫৩
প্রধানমন্ত্রীর টার্গেট বিএনপিকে ধ্বংস করা : খালেদা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টার্গেট বিএনপি। তাই বিএনপিকে ধ্বংস করার চেষ্টা হচ্ছে। শেখ হাসিনা মনে করছেন, বিএনপি ধ্বংস হলেই ক্ষমতা পাকাপোক্ত। বিএনপিকে ধ্বংস করতে পারলেই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার বন্দোবস্ত হয়ে যাবে। কিন্তু তার এ ইচ্ছা কোনো দিনই পূরণ হবে না। ’ গতকাল রাজধানীর লেডিস ক্লাবে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নেই। কারও নিরাপত্তা নেই। যে কোনো সময় যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য। কিন্তু মানুষের জীবন নিরাপদ নয়। পবিত্র রমজান মাসে সাঁড়াশি অভিযান চলেছে। এ অভিযান কাদের বিরুদ্ধে? এই যে বিদেশি হত্যা করা হলো। কোনো ঘটনায় কাউকে ধরতে পারল না। এই লোকগুলো তাদের সমর্থনে কেউ ছিল। তাদের পক্ষে কাজ করে সেজন্য ধরা হয়নি। সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও অন্য দলের লোককে গ্রেফতার করা হলো। ১৬ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হলো। এর মধ্যে কয়জন অপরাধী? বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, যাদের ধরা হলো তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। যাকে খুশি ধরে নিয়ে ক্রসফায়ার দিয়ে দিল। কে বেঁচে থাকল, কে মরে গেল মা-বাবা জানল না। বিএনপির তিন হাজারের ওপর নেতা-কর্মী গ্রেফতার করা হয়েছে। কাউকে ছাড়া হলো না। সত্যিকারের অপরাধীদের গ্রেফতার করুন। আমরা সহযোগিতা করব। অন্যায়ভাবে জুলুম-নির্যাতন চালাবেন, তা হবে না। তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে পুলিশ বাণিজ্য করার সুযোগ পাচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় এমন কারও নিরাপত্তার জন্য না কি মসজিদে আজান দেওয়া যাবে না। আজকে মসজিদে মাইকে আজান পর্যন্ত দেওয়া হয় না। দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে কি কোনো উদ্দেশ্য আছে? হিন্দুদেরও মন্দির ভেঙেছে। জমি দখল করছে। কাউকে গ্রেফতার করেনি। কারণ ছাত্রলীগ এসব ঘটনায় জড়িত। দেশে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, মানুষ জুলুম-অত্যচার বন্ধ চায়। কিন্তু তা বেড়েই চলেছে। লুটপাট চলছে। ব্যাংকগুলো থেকে হাজার কোটি টাকা চুরি হচ্ছে। যার কোনো হিসাব নেই। শফিক রেহমানের দোষ কী। ৩০০ মিলিয়ন ডলার যে লোপাট করেছে আমেরিকায় তদন্ত চলছে সেই কাগজপত্র তার কাছে ছিল। সেজন্য তিনি জেল খাটছেন। ডলার লুটপাটকারীদের এখানে আনা উচিত। বিচার করা উচিত। তাহলে সত্যিকারের বিচার করা হবে।

ইফতার মাহফিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ছাড়াও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনাম আহমেদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূইয়া, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, মাহবুবুল হক নান্নু, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার, কাজী আবুল বাশার, ইউনুছ মৃধা, আবুল বাসেদ আঞ্জু, নাসিমা আক্তার কল্পনা, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, শ্রমিক দল সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, ওলামা দল সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নেছারুল হক, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মনির খান প্রমুখ অংশ নেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow