Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ জুন, ২০১৬ ২৩:৫৫
প্রকৃতি
হারিয়ে গেছে ৩১ প্রজাতির পাখি
মোস্তফা কাজল
হারিয়ে গেছে ৩১ প্রজাতির পাখি

কয়েক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের বনাঞ্চল থেকে ৩১ প্রজাতির পাখি হারিয়ে গেছে। দু-এক দিনের মধ্যে বন বিভাগের বন্য প্রাণী বিভাগ হারিয়ে যাওয়া পাখি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

এ ছাড়া হারিয়ে যাওয়া পাখির মধ্যে লালমুখ দাগিডানা একসময় সিলেটে দেখা যেত।   সেখানকার পাহাড়ি বাঁশঝাড়ে এরা বাসা বাঁধত। ওই বিশেষ জাতের পাহাড়ি বাঁশঝাড় প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় এই পাখিরাও সেখান থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার একেকটি সারস বাংলার নদীর কাছে ঘুরে বেড়াত। জলাভূমির শামুক ও ঝিনুক ছিল এদের খাবার। মূলত শিকারিদের রোষানলে পড়ে এই বিশাল পাখিটি এ দেশ থেকে হারিয়ে গেছে। এ ছাড়া ধূসর মেটে তিতির ও বাদা তিতির পাখিও হারিয়ে গেছে। এছাড়া বাংলার বিখ্যাত বাদি হাঁস, গোলাপি হাঁস, বড় হাড়গিলা বা মদনটাক, ধলাপেট বগ, সাদাফোঁটা গগন রেড, রাজ শকুন, দাগি বুক টিয়াঠুঁটি, লালমাথা টিয়াঠুঁটি, গাছ আঁচড়া, সবুজ ময়ূর চিরতরে এ দেশ থেকে হারিয়ে গেছে। এ ছাড়া বিপন্নের তালিকায় এসেছে চিত্রিত ব্যাঙ, বেলুন ব্যাঙ, চ্যাপ্টা মাথা ব্যাঙ, ঝরনা সুন্দরী ব্যাঙ, বড় গেছো ব্যাঙ। এসব প্রাণীর বিষয়ে প্রাণী ও পাখি বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মূলত আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে ৩১ প্রজাতির পাখি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল গবেষক কাজ করেছেন। তারা সুন্দরবন ক্রো বা বাংলার কাক নামে প্রজাতির একটি জাতকে মহাবিপদাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এটি মূলত সুন্দরবনের কটকা ও কচিখালী এলাকার আট কিলোমিটার বিস্তীর্ণ বনে বসবাস করে। এ পাখির বিষয়ে মনোয়ার হোসেন বলেন, লবণাক্ততা ও পর্যটকদের উৎপাতের কারণে আকন্দগাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই এই গাছের ওপর নির্ভরশীল প্রজাতিও মহা বিপন্নের তালিকায় ঢুকে পড়েছে। সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর মধ্যে মিঠাপানির কুমির বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গেছে। বন্য পরিবেশ থেকে এটি অনেক আগে হারিয়ে গেলেও বাগেরহাটের খানজাহান আলীর মাজারে দুটি মিঠাপানির কুমির ছিল। দুই বছর আগে এ দুটি মারা যাওয়ার মাধ্যমে এই প্রজাতিই বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া পদ্মার চর ও দেশের বেশির ভাগ এলাকায় একসময় ঘড়িয়াল পাওয়া যেত। এই প্রাণী দুটি এবার মহাবিপন্নের তালিকায় প্রবেশ করেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow