Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ২৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ জুন, ২০১৬ ০১:৫৯
আটপৌরে শাড়িই বাংলার ঐতিহ্য
মোস্তফা মতিহার
আটপৌরে শাড়িই বাংলার ঐতিহ্য

পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে পশ্চিমা পোশাকের প্রতি তরুণীরা যতই আকর্ষিত হোক, শাড়ির প্রতি নারীর রয়েছে আলাদা কদর। উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত—সব শ্রেণির নারীই শাড়িতে খুঁজে পান নিজস্বতার সুখ। আটপৌরে শাড়ি বাঙালি নারীর অহংকার, অলঙ্কার ও নারীর স্বাতন্ত্র্যের মূল অনুষঙ্গ। এ কারণে যত পোশাকের সমাহারই ঘটুক না কেন, বাঙালি ললনাদের হৃদয় জুড়ে রয়েছে শাড়ি। কারণ শাড়ি তো বাঙালি নারীর নিজের, নিজেদের এবং দেশজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রধান পোশাক। আর যা-ই হোক উৎসব ও অনুষ্ঠানে শাড়ির সমাদর চিরায়ত। লাল বেনারসি, জামদানি, কাতান, তাঁত ইত্যাদি আটপৌরে শাড়ি সারা অঙ্গে জড়িয়ে এ দেশের রমণীরাও অহং বোধ করেন। ঈদের সময় যদি শাড়িই কেনা না হয় তাহলে ঈদের কেনাকাটার ষোলকলা যেন পূর্ণ হয় না। শাড়ির প্রতি নারীর প্রীতির কথা বিবেচনা করেই রাজধানীর মিরপুরে গড়ে উঠেছে বেনারসি পল্লী। বেনারসি নারীর কোমল হৃদয়ে অনুভূতির অবতার ঘটায় বলে এর প্রতি দুর্বলতা এ দেশের সব নারীর। তবে দেশের বৃহত্তম শাড়ির পাইকারি বাজার মিরপুরের বেনারসি পল্লী এখন আর শুধু বেনারসিতে সীমাবদ্ধ নয়। যুগের চাহিদা মেটাতে বেনারসির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাতান, সফট কাতান, অপেরা কাতান, টিস্যু কাতান, মিরপুর কাতান, প্লেন কাতান, চেন্নাই কাতান, জেরি কাতান, সাউথ কাতান, রাজগুরু, ঢাকাই মসলিন, ঢাকাই জামদানি, জর্জেট, সিল্ক, হাফ সিল্ক, তসর, শিফন, ফুয়েল শিফন, পিওর শিফন, কাঞ্জিবরণ, কাঞ্জিবরণ ডুয়েল, পিওর খাদি, থাসমিনা, সালতানাত, গাদোয়ান, কইমটর, আফলাতুন, মাশকারা, নুরিতা, মোহমায়া, ধূপিয়ানি, অর্গেন্ডি, তাঁত, বেলভেট, লেহেঙ্গা ও পাকশি শাড়ি। কাপড়ের গুণগত মানের এসব শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ন্যূনতম ৬০০ থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকার মধ্যে। বেনারসি পল্লীর সুব্রা ফ্যাশন লিমিটেডের অন্যতম স্বত্বাধিকারী জহির হোসেন ভূঁইয়া জানান, ক্রেতাদের সাধ ও সাধ্যের কথা বিবেচনা রেখে তারা সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ দামের শাড়ি রেখেছেন। সুব্রা ফ্যাশনে পিওর খাদি শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৮ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায়, পিওর সিল্ক ৭ হাজার থেকে ২০ হাজার, থাসমিনা ৮ হাজার থেকে ২০ হাজার, কাঞ্জিবরণ ৩ হাজার থেকে ৮০ হাজার, তসর ২ হাজার থেকে ২৫ হাজার, জেরি কাতান ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার, সালাতানাত ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার, গাদোয়ান ও কইমটর ৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার, আফলাতুন ২ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার ৫০০, মাশকারা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার, জুয়েল শিপন ৪ হাজার থেকে ৪০ হাজার, পাকশি কাজের শাড়ি ও পিওর শিপনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা, লেহেঙ্গা শাড়ি ৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার, বেনারসি ৫ হাজার থেকে ৮৫ হাজার, ধূপিয়ানি ২ হাজার থেকে ২০ হাজার, অর্গেন্ডি ২ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow