Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৬
পুরুষের চাহিদার শীর্ষে খাদি পাঞ্জাবি
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা
পুরুষের চাহিদার শীর্ষে খাদি পাঞ্জাবি
ঈদ বাজার কুমিল্লা

কুমিল্লার ঈদ বাজারে ঐতিহ্যবাহী খাদি কাপড়ের পাঞ্জাবি পুরুষের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। এ ছাড়া দৃষ্টিনন্দন, আরামদায়ক এবং কম দাম হওয়ায় খাদি কাপড়ের থ্রি-পিস ক্রয় করছেন মহিলারা। সাদা এবং রঙিন পাঞ্জাবিগুলো বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত। থ্রি-পিসের দাম ৫০০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া রয়েছে শার্ট, ফতুয়া, বিছানার চাদর, গায়ের চাদর, ছোটদের প্যান্ট-শার্টসহ বিভিন্ন পোশাক। খাদির পোশাক যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি পরতে আরামদায়ক।

 কুমিল্লা মহানগরীর মনোহরপুর ও লাকসাম রোডে খাদিপণ্য বিক্রির পুরনো দোকানগুলোর পাশাপাশি অনেক নতুন দোকান গড়ে উঠেছে। খাদি ব্যবসায়ী সূত্র জানায়, খাদির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতবর্ষের স্বাধিকার আন্দোলন ও বাঙালি ঐতিহ্য। এ কাপড় খাদে (গর্তে) বসে তৈরি করা হয় বলে এর নাম দেওয়া হয় ‘খাদি’। শতবর্ষের ঐতিহ্যের খাদি আলোচনায় আসে ১৯২১ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময়। তখন মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে সমগ্র ভারতবর্ষে অসহযোগ আন্দোলনের সময় কুমিল্লায় খাদি শিল্প প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সেই সময় বিদেশি পণ্য বর্জন করার ডাক ওঠে। সর্বত্র এক আওয়াজ ‘মোটা কাপড়-মোটা ভাত’। সেই মোটা কাপড় এখন মিহি হয়েছে। কাপড়ে লেগেছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। কুমিল্লার খাদি এখন শৈল্পিকতার ছোঁয়ায় দেশ-বিদেশে সমাদৃত হয়ে আসছে। খাদির কাপড় যাচ্ছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। এ সুনাম অর্জিত হয়েছে বহু বছর ধরে অনেক কারিগর আর ব্যবসায়ীর অক্লান্ত পরিশ্রমে। খাদি কাপড়ের সঙ্গে এখন কয়েকটি দিক জড়িত রয়েছে। তা হচ্ছে তাঁতী, সুতা কাটুনি, ব্লককাটার ও রঙের কারিগর। সবাই মিলে তৈরি করেন নান্দনিক খাদি কাপড়। বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় দেড় হাজার পরিবার এ পেশায় জড়িত। মহানগরে খাদি কাপড়ের দোকান রয়েছে শতাধিক। খাদি শিল্পের প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন কুমিল্লা মহানগরের খাদি ঘরের তরুণী মোহন রাহা, খাদি কুটিরশিল্পের শংকর সাহা, খাদি ভবনের দীনেশ দাশ, বিশুদ্ধ খদ্দরের মনমোহন দত্ত ও রাম নারায়ণ স্টোরের কৃষ্ণ সাহা। কুমিল্লা মহানগরীর খাদি কাপড়ের প্রবীণ ব্যবসায়ী খাদিঘরের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার রাহা বলেন, বর্তমানে খাদি শিল্পে অনেক নতুন নতুন ডিজাইন এসেছে, কারণ ১৯২১ সালের প্রেক্ষাপট ও চাহিদা এক নয়। কুমিল্লা খাদি শিল্পের একটা শক্ত ভিত আছে। শতবর্ষের খাদিপণ্য তার গুণগত মান বজায় রেখে আধুনিকতার সংমিশ্রণে প্রতিযোগিতার বাজারে চাহিদা ধরে রেখেছে। পৃথিবীর যেখানে বাঙালি কমিউনিটি আছে সেখানে খাদি কাপড়ের প্রসার ঘটেছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের বিদেশি দূতাবাসে খাদিসহ দেশীয় পণ্যের প্রদর্শনী করলে তা পণ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটাবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow