Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৭
শোকের মাতম দুই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে
প্রতিদিন ডেস্ক
শোকের মাতম দুই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে
জঙ্গি হামলায় নিহত ডিবির সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলামের মানিকগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে আহাজারি —বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাজধানীর গুলশানের অভিজাত রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিসান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ খান লুই এবং ডিবির সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম নিহত হওয়ার পর গতকাল দিনভর তাদের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলেছে। পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশীদের কেউ এ মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেননি।

আমাদের গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গোপালগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সরকারি এস এম মডেল স্কুলের সবার প্রিয় শিক্ষক স্কাউট মান্নান স্যারের ছেলে বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ খান লুই আর নেই— এ কথা কেউ মেনে নিতে পারেননি। গতকাল রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকে গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংকপাড়ার বাসায় আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী ভিড় করেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাসায় দিনভর চলেছে শোকের মাতম। ৭ ভাই ৪ বোনের মধ্যে লুই ছিলেন পঞ্চম। নিহত ওসি সালাউদ্দিনের পিতা স্কাউট মান্নান স্যার ডিজি র‌্যাব বেনজীর আহমেদেরও স্যার ছিলেন। ওসি সালাউদ্দিন আহমেদকে গোপালগঞ্জের মানুষ লুই নামে চিনতেন। জানতেন একজন ভালো মানুষ হিসেবে, একজন পরোপকারী হিসেবে। কিন্তু সেই মানুষটিই এত তাড়াতাড়ি সবাইকে ছেড়ে এভাবে চলে যাবেন— তা কেউ মেনে নিতে পারেননি। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী ওসি লুইয়ের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি করে বলেছেন, এদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে না পারলে এ ধরনের ঘটনা দেশে আরও বৃদ্ধি পাবে। এদের মূলোৎপাটন করার জন্য তারা সরকারের কাছে দাবি জানান। মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ডিবির সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলামের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদরের কাটিগ্রামে। সাহসী এই পুলিশ কর্মকর্তার অকাল মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের লোকজনের আহাজারিতে সারা দিন ভারী ছিল আকাশ-বাতাস। স্বামীর মৃত্যু সংবাদে রবিউলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী উম্মে সালমা বেশির ভাগ সময় অচেতন থেকেছেন। রবিউলের মা করিমুন্নেছা কান্নার শক্তিও হারিয়ে ফেলেন। রবিউল চাকরিতে যেমন নিষ্ঠাবান ছিলেন, এলাকায় সামাজিক কাজকর্মেও তেমন ছিলেন আন্তরিক। তিনি নিজ উদ্যোগে এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও গড়েছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow