Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:১১
পলাতকদের নিয়ে গোলক ধাঁধা
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
পলাতকদের নিয়ে গোলক ধাঁধা

এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় পুলিশি খাতায় ‘পলাতক’ তিন আসামিকে আটক করা হয়েছে কি হয়নি সেই রহস্যের জট খোলাসা হচ্ছে না। আসামিদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তাদের আটক করেছে পুলিশ।

কিন্তু এ দাবি অস্বীকার করে পুলিশ বলেছে, তাদের গ্রেফতারে হন্যে হয়ে খোঁজা হচ্ছে। এমন অবস্থায় মিতু হত্যা মামলার ‘পলাতক’ আসামিদের পরিবারের দাবি এবং পুলিশের অস্বীকার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ‘গোলক-ধাঁধা’। সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, ‘মিতু হত্যা মামলার সব আসামিকে গ্রেফতারে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এ পর্যন্ত যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের সবাইকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। ’ মিতু কিলিং মিশনে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের একজন নুরুল ইসলাম রাশেদ ওরফে ভাগ্নে রাশেদের ছোট ভাই শহীদুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘২৩ জুন বোয়ালখালী থেকে রাশেদকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও পুলিশ রাশেদকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করছে। এখন পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, মিতু খুনের নির্দেশদাতাকে রক্ষা করতে হয়তো রাশেদকে গুম করা হয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি রাশেদ, ওয়াসিম ও আবদুল নবীকে আটকের পর একই কক্ষে রাখা হয়। তিন দিন তারা এক কক্ষেই ছিলেন। পরে ওয়াসিমকে পুলিশ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। এখন রাশেদ ও নবীকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করছে পুলিশ। ’ একইভাবে মিতু কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া খুনি ভাড়া করা কামরুল ইসলাম ওরফে মুছা সিকদারের স্ত্রী পান্না আক্তার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘২২ জুন আমাদের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে মুছাকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু এখন তা অস্বীকার করছে। আমরা শঙ্কা করছি, কোনো একটি পক্ষকে রক্ষা করতে মুছাকে গুম ও ক্রসফায়ার দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ’ জানা যায়, পুলিশি খাতায় পলাতক থাকা কামরুল ইসলাম ওরফে মুছা সিকদার, নুরুল ইসলাম রাশেদ ও আবদুল নবী মিতু হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে মুছা এসপি স্ত্রী মিতুকে গুলি করেন এবং মোটরসাইকেল চালিয়ে তিনজনকে নিয়ে পালিয়ে যান। এ ছাড়া এ কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া খুনিদের ভাড়াও করেন মুছা। তবে আনোয়ারের দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ওয়াসিম মিতুকে গুলি করেন বলে উল্লেখ করেন। আবদুল নবী সর্বপ্রথম মিতুকে ছুরিকাঘাত করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন ওয়াসিম ও আনোয়ার। রাশেদ খুনের সময় ওই এলাকায় ব্যাকআপ সদস্য হিসেবে ছিলেন। প্রসঙ্গত, ৫ জুন নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow