Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:২৩
নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা
তৃতীয় দিনে ভিড় হুড়োহুড়ি ছিল না টার্মিনাল-স্টেশনে
নিজস্ব প্রতিবেদক
তৃতীয় দিনে ভিড় হুড়োহুড়ি ছিল না টার্মিনাল-স্টেশনে
ঢাকা সদরঘাটে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় —বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঈদের ছুটির তৃতীয় দিনে গতকাল অনেকটা নির্বিবাদে নাড়ির টানে বাড়ির পথে গেছেন বাস-ট্রেন ও লঞ্চ যাত্রীরা। বাস টার্মিনাল, ট্রেন স্টেশন ও সদরঘাটে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও হুড়োহুড়ি ছিল না। টিকিট পাওয়া নিয়েও ভোগান্তি ছিল না। তবে বৃষ্টির কারণে মানুষকে কিছুটা ভুগতে হয়েছে।

গতকাল ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কমলাপুর রেলস্টেশনে এসে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেক যাত্রীকে। সকাল থেকে স্টেশনে আসতে থাকেন ঘরমুখো মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশের রোদ-বৃষ্টি খেলায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীসাধারণকে। স্টেশনে দুপুরের পর থেকে বাড়তে থাকে যাত্রীর চাপ। অনেকে টিকিট নিয়েছেন লাইনে দাঁড়িয়ে, তবে এদের সংখ্যা খুব কম ছিল। বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. আরিফুজ্জামান জানান, অন্য বছরের চেয়ে এ বছর ব্যবস্থাপনায় অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে প্রথম থেকেই টিকিট নিয়ে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি। আমরা সবাইকে টিকিট দিতে পেরেছি। এখন তিন স্তরের নিরাপত্তা দিয়ে সব যাত্রীকে সেবা দিচ্ছি।

কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, যতক্ষণ টিকিট থাকবে ততক্ষণ আমরা টিকিট বিক্রি করব। এবার লম্বা ছুটি থাকায় টিকিট নিয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তিনি জানান, আজ থেকে ঈদের বিশেষ ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটে খুলনা স্পেশাল এক জোড়া, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল এক জোড়া এবং ঢাকা-পার্বতীপুর-ঢাকা রুটে এক জোড়া পার্বতীপুর স্পেশাল রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঈদ স্পেশাল ট্রেন ছেড়ে যাবে বলেও জানান স্টেশন ম্যানেজার।

সবাই ছুটছেন নাড়ির টানে : কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রী শফিক আলম বলেন, বাড়ি যাওয়ার কথা মনে পড়লে আর বাসায় থাকতে ইচ্ছা করে না। বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে গাড়ি আসবে, কিন্তু চলে এসেছি দুপুর ২টায়। বাড়ি যাব, একটু আগেই এসে বসে আছি। জামালপুরের এক যাত্রী বলেন, ১০ দিন আগে অগ্রিম টিকিট ছাড়ে। সেই সময় ব্যস্ত থাকায় টিকিট নিতে পারিনি। তবে টিকিট মিলেছে। কোনো সমস্যা হয়নি। বাবা-মা-ভাই-বোনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে বগুড়া যাচ্ছেন খায়রুন। তিনি বলেন, ট্রেনে এটা প্রথম ভ্রমণ। ভোগান্তি না থাকায় অনেক ভালো লাগছে। তিতাস এক্সপ্রেসের যাত্রী জিয়া বলেন, ছেলে-মেয়ে, মা-বাবার সঙ্গে ঈদ আনন্দ উদযাপন করতেই বাড়ি যাওয়া।   

বাস টার্মিনাল : নির্ঝঞ্ঝাট চিত্র ছিল গাবতলীর বাস টার্মিনালেও। ঈদের ছুটিতে টার্মিনাল লোকে লোকারণ্য থাকার কথা থাকলেও যাত্রীর চাপ ছিল বেশ কম। মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালেও ছিল একই চিত্র। দেখা গেছে, দু-একটি কাউন্টার ছাড়া সব কাউন্টারই ছিল প্রায় ফাঁকা। অবশ্য সন্ধ্যার দিকে যাত্রীর চাপ কিছুটা বেড়েছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মহাখালী টার্মিনাল ঘুরে আরও দেখা গেছে, ঈদের সময় যাত্রীর যে হুড়োহুড়ি বা জটলা থাকার কথা, তার কিছুই ছিল না। এ ছাড়া ১০ মিনিট পরপর গাড়ি ছাড়ার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তিও ছিল না। দেখা গেছে, গত দুই বছরের চেয়ে এবার টিকিট কাটার ভোগান্তি নেই। যানজট কম। নির্বিঘ্নে যাত্রীরা অল্প সময়ে বাড়িতে পৌঁছতে পারবেন- যদি রাস্তায় যানজট না থাকে। একজন কাউন্টার মাস্টার জানান, গত দুই দিনের চেয়ে আজকে (গতকাল) একটু চাপ বেড়েছে। অপরদিকে দূরপাল্লার চেয়ে ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার যাত্রীদের কিছুটা ভিড় ছিল কাউন্টারে। অন্যদিকে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের তেমন বাড়তি কোনো চাপ ছিল না পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলগামী ২১টি জেলার মানুষ কোনো রকমের ভোগান্তি ছাড়াই পারাপার হয়েছেন এ পথে।

সদরঘাটে অপেক্ষা : দেশের বৃহৎ নৌবন্দর সদরঘাটে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ঈদে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে সদরঘাটের প্রতিটি পন্টুন আনাচে-কানাচে ভরপুর। এ সময় যাত্রীদের অনেকে আগের দিন রাত ৯টা থেকে লঞ্চের ডেকে সিট ধরে রাখেন। লঞ্চ ছাড়ার তিন ঘণ্টা বাকি থাকতে গতকাল সকাল ১০টায় বরিশালের পারাবতের নিচ ও ওপর তলার ডেকগুলো যাত্রী দিয়ে পরিপূর্ণ ছিল। আবার এরই মধ্যে নষ্ট কিছু লঞ্চ তাত্ক্ষণিকভাবে মেরামত করে সদরঘাট থেকে যাত্রী বোঝাই করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পটুয়াখালী ও বগা রুটের আসা-যাওয়া-২ লঞ্চটির সামনের ভাঙা ইস্পাত ঝালাই দেওয়ার পর সেটিতে তোলা হয় যাত্রী। সদরঘাট দিয়ে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি ও চাঁদপুরসহ ২২ জেলার ৪১টি রুটে মোট ১৮৫টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow