Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০
সরকারকে খালেদা জিয়া
ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক

জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে এর দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা ছেড়ে নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার বিশিষ্ট নাগরিক ও ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি মিশনের কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জঙ্গি দমনে এ সরকার প্রথম থেকেই ব্যর্থ। এখন ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারের উচিত একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরে যাওয়া। ঈদের দিন বেলা ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলানগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি চেয়ারপারসনের ঈদের কুশল বিনিময়ের এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে আরও অংশ নেন দলীয় নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বেগম জিয়া বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে এ মুহূর্তে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। দেশের ভিতর একের পর এক যেসব নৃশংস ঘটনা ঘটছে, সেগুলো বন্ধ হওয়া দরকার। সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে যারা ক্ষমতায় আছে তাদের দায়িত্বটা বেশি। কারণ তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, জোর করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসে আছে। খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশে একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। সরকার আজ পর্যন্ত কোনো ঘটনা ঠিকমতো হ্যান্ডল করতে পারেনি। ঢাকা শহরসহ অন্যত্র যেসব ঘটনা ঘটেছে, তাতে জড়িত কোনো অপরাধীকে তারা ধরতে পারেনি। সন্ত্রাস দমনসহ সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় নিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।   গুলশানের রেস্টুরেন্টে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলা প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এবারের ঈদ অত্যন্ত দুঃখজনক। আগের মতো কারও মনে ঈদের সেই আনন্দ নেই। কারণ কয়েক দিন আগেই গুলশানে রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ রকম বর্বরোচিত ঘটনা বাংলাদেশে আগে আর কখনো ঘটেনি। এরপর আজ (ঈদের দিন) আবার শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এটিও অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। ’ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা ও সান্ত্বনা দেওয়ার পরিবর্তে যা ইচ্ছা তা-ই বলছে। তারা শুধু ‘ব্লেইম গেম’ খেলছে। তারা ইচ্ছামতো ব্লেইম দেয়। যারা সত্যিকারের অপরাধী তাদের ধরা হচ্ছে না। বরং বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ধরে নির্যাতন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধীরা অপরাধ করেই চলেছে এবং অপরাধ করে পারও পেয়ে যাচ্ছে।

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহ (অব.), ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন-অর রশিদ, বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান, শহীদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা কাজী আবুল বাশার, শেখ রবিউল আলম, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি-প্রধান বলেন, বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) হত্যাকাণ্ড দিয়েই এসব হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। বিডিআরের ওই ঘটনা তখনই যদি শক্তভাবে দমন করা যেত, তাহলে আজকে বাংলাদেশে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস পেত না। খালেদা জিয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘সরকারের গাফিলতি, ব্যর্থতা ও অযোগ্যতার কারণে গুলশানের রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কেন এ ঘটনা ঘটল? জিম্মিদের উদ্ধারে কেনই বা এত সময় লাগল? কেন অপারেশনের জন্য ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো? তখন প্রতিটি মানুষের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা ছিল। কিন্তু ভোরে আমরা কী দেখলাম, আমরা শুধু মৃত মানুষকেই দেখলাম। আমরা তো দেখিনি বিরাট একটা অপারেশন করে বিরাট সফলতা অর্জিত হয়েছে। আসলে সরকার কোনো ঘটনাই ঠিকমতো হ্যান্ডল করতে পারেনি। ঢাকা শহরে যত ঘটনা ঘটেছে, কোনো অপরাধীকেই তারা ধরতে পারেনি। এমনকি নারায়ণগঞ্জের ঘটনা (সাত খুন) নিয়েও অনেক কথা শোনা যায়। ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি। ’

তিনি বলেন, “গুলশানে রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার পর প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘এই একবারই আমরা ব্যর্থ হলাম। ’ কিন্তু আমরা আগেই বলেছি, সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সরকারে আসার পরপরই বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এটি কি কোনো ঘটনা নয়? সেখানে সেনাবাহিনীর ৫৭ জন অফিসার মারা গেছে। অথচ বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হলো। কিন্তু কেন? কাজেই গুলশান হামলা তো প্রথম ঘটনা নয়। ” ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে বেগম খালেদা জিয়া প্রথমে শেরেবাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধি এবং পরে বনানী কবরস্থানে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন। এরপর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফিরে যান তিনি।

মাকে ঈদের শুভেচ্ছা তারেক রহমানের : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে টেলিফোনে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগের দিন লন্ডনের কিং স্টোন মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করে বাসায় ফিরেই মায়ের কাছে ফোন করেন তিনি। ফোনালাপে তারেক রহমান এবং ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার ঈদ হলেও লন্ডনে উদ্যাপিত হয়েছে এক দিন আগে। এ ছাড়া লন্ডনে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীসহ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারেক রহমান। মা খালেদা জিয়াকে ছাড়াই বিদেশে ঈদ উদ্যাপন করছেন তিনি। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার্থে লন্ডনে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে সেখানেই অবস্থান করছেন তারেক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow