Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৫
নওগাঁর পতিত জমিতে বাঁশবাগান
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর পতিত জমিতে বাঁশবাগান

সামাজিক বনবিভাগের প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কঞ্চি থেকে বাঁশবাগান গড়ে তোলা হয়েছে ধামইরহাট উপজেলার ৩৫ হেক্টর পতিত জমিতে। তিন বছর আগে গড়ে তোলা এ বাগানে লাখ লাখ টাকার স্বপ্ন দেখছেন শতাধিক বেকার মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন এলাকাবাসীর আর্থিক উন্নয়ন হবে, পাশাপাশি সরকারের আসবে রাজস্ব। এ সফল উদ্যোগটি নিয়েছেন বৃক্ষ রোপণে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম পুরস্কার পাওয়া ধামইরহাট বনবিট কর্মকর্তা লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিক। জানা গেছে, বনবিট কর্মকর্তা লক্ষণ চন্দ্র তার অফিসে বিশেষ পদ্ধতিতে ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রায় ২০ হাজার কঞ্চি কলমের বাঁশ তৈরি করেন। তার পরামর্শে আলামপুর ইউনিয়নের সিলিমপুরে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১০০ পরিবারের একজন করে সদস্য ১০০ জন উপকারভোগী নিয়ে আত্রাই নদীর পাশে ফসল না হওয়া ৩৫ হেক্টর পতিত জমির উপর ১৭ হাজার পাক-কঞ্চি কলমের বাঁশের চারা লাগানো হয়। এসব বাঁশ উপকারভোগীরা রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছেন। উপকারভোগীরা জানিয়েছেন, বাঁশের চারা লাগানোর পর থেকে এক দিন পরপর পানি দিতে হয়। বাঁশ মাটিতে লেগে গেলে প্রতিবছর বৈশাখে মাটিতে জৈব সার, ইউরিয়া, ডিএপি ও পটাশ সার বাঁশের গোড়ায় ছিটিয়ে পানি দিয়ে আগলা করে দিতে হয়। এরপর শক্ত খুঁটি দিয়ে বাঁশের কলম বেঁধে দিতে হয়। যে পাতাগুলো থেকে যায় তা পচে যায়। এতে বাঁশের উপকার হয়। প্রায় ৪ বছর পর বাঁশ পরিপক্ব হলে কাটার উপযোগী হবে। এরপর প্রতিবছর বাঁশ কাটা হবে। বাঁশলী জাতের বাঁশ। একটি কঞ্চি কলম থেকে প্রায় ১৫-৩০টি করে বাঁশ হয়েছে। উপকারভোগী সদস্য মাহমুদা জানান, সংসারের কাজের পাশাপাশি সপ্তাহে ২-৩ দিন বাঁশবাগান পরিচর্যার জন্য সময় দেন। বনবিট কর্মকর্তা সহযোগিতা ও পরামর্শ দেন। উপকারীভোগী সান্ত্বনা রানী রায় জানান, শুরু থেকেই দেখাশুনা করছেন। এক বছর পর সুফল পাবেন। এরপর প্রতিবছর নিয়মিত টাকা পাবেন। এতে সংসারের উন্নতি হবে এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল হবে। রেখা রানী জানান, বাঁশবাগানের শুরু থেকে সদস্য আছেন। এলাকাবাসী আকতার হোসেন জানান, স্বল্প সময়ে এটি একটি সফল বাঁশবাগানে পরিণত হয়েছে। উপকারভোগীরা মোটা অঙ্কের অর্থ পাবেন এবং আর্থিক উন্নয়ন হবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় হবে। উপকারভোগী মমতা, বিষাণী, সান্ত্বনা, আফজাল হোসেনসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর থেকে বাগানের পরিচর্যা ও দেখাশুনা করছেন। বাঁশের পাতা জ্বালানির কাজে ব্যবহার করায় জ্বালানি কিনতে হয় না। বাঁশবাগানের তত্ত্বাবধায়ক কামাল হোসেন জানান, এসব জমিতে পানি সংকটের কারণে ঠিকমতো ফসল হতো না। সবাই মিলে সমিতি করে বনবিট কর্মকর্তার পরামর্শে ও নির্দেশনায় পতিত জমিতে বাগান তৈরি করা হয়। প্রতি ঝাড়ে প্রায় ১৫ থেকে ৩০টি করে বাঁশ হয়েছে। যত দিন যাবে বাঁশের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে আয় বৃদ্ধি পাবে। বৃক্ষ রোপণে চারবার প্রধানমন্ত্রীর প্রথম পুরস্কার পাওয়া বনবিট কর্মকর্তা লক্ষণ চন্দ্র ভৌমিক জানান, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৫ হেক্টর জমিতে সিলিমপুর, বলরামপুর, পশ্চিম চানপুর এবং চৌঘাট গ্রামের উপকারভোগীদের নিয়ে কঞ্চি কলমের বাঁশবাগান করা হয়েছে। বাংলাদেশের মধ্যে নওগাঁর ধামইরহাটে এটি প্রথম। বাঁশবাগান থেকে যে আয় হবে উপকারভোগী পাবেন ৪৫ শতাংশ, ৪৫ শতাংশ সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হবে এবং ১০ শতাংশ বাগান পরিচর্যার কাজে খরচ করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow