Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৪
বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেড় হাজার কেজি অবৈধ সোনা
রুকনুজ্জামান অঞ্জন
বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেড় হাজার কেজি অবৈধ সোনা

গত আড়াই বছরে অবৈধভাবে আনা প্রায় দেড় হাজার কেজি সোনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা এবং কাস্টমস ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক আটক ও জব্দকৃত এসব সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এ তথ্য পাঠানো হয়েছে।

তথ্যে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫২৭ কেজি ৬৭৬ গ্রাম সোনা কাস্টমস ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হেফাজতকৃত সোনার পরিমাণ ১ হাজার ৯৪৬ কেজি ৮৭ গ্রাম।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যে পরিমাণ সোনা জমা হয়েছে প্রকৃত অর্থে তার চেয়ে অনেক বেশি সোনা চোরাচালান হয়ে বাংলাদেশে আসে বলে জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। সংস্থার মহাপরিচালক ড. মইনূল খান সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির এক অনুষ্ঠানে বলেন, আমরা যে পরিমাণ সোনা তিন বছরে জব্দ করেছি, তার তিনগুণের বেশি সোনা চোরাচালানে আনা হয়েছে বাংলাদেশে। গত তিন বছরে প্রায় ৮০ মণ সোনা জব্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রতিবছর যে টন টন সোনা আসছে প্রকৃত অর্থে সে সোনা যাচ্ছে কোথায়? সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে যে সোনার চাহিদা সেটি বৈধ পথেই আনা যায়। এরজন্য চোরাচালানের দরকার নেই। চোরাচালানের সোনা আসলে বাংলাদেশের জন্য আসে না। আসে অন্য দেশের চাহিদা মেটাতে। আর এ সুযোগ নেয় চোরাকারবারিরা। জুয়েলারি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. দিলীপ কুমার রায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চোরাচালানের সোনা বাংলাদেশে থাকে না, এটা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যায়। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকার সোনার গহনা বিক্রি হয়। কম বেশি প্রায় ১২ মেট্রিক টন সোনার চাহিদা আছে দেশে। আর ভারতে বছরে সোনার চাহিদা দেড় হাজার মেট্রিক টনের বেশি। ফলে এত বেশি পরিমাণ সোনার চাহিদা পূরণে চোরাকারবারিরা বাংলাদেশকে স্মাগলিং রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। মূলত হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন সহজ হওয়ার কারণেই চোরাকারবারিরা ভারতে সোনা পাচারের রুট হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চোরাচালান হয়ে যে সোনা এখানে আসে এটা বাংলাদেশের জন্য নয়। মূলত ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশকে সোনা চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অবৈধপথে আনা এ সোনার প্রায় পুরোটাই পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হয়ে যায়। আর এ পাচার কার্যক্রম চলে মূলত হুন্ডির মাধ্যমে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow