Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৬ ০০:১৯
কৃষি সংবাদ
ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যে শিবপুরের লটকন
শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্, শিবপুর (নরসিংদী) থেকে ফিরে
ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যে শিবপুরের লটকন

দেশের মধ্যে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা সবজির এলাকা বলে সুপরিচিত। এখানে ‘লটকন’ চাষেরও রয়েছে ব্যাপক খ্যাতি। আর এ খ্যাতিতে যুক্ত হয়েছে বিদেশে চাহিদা। ফলে এরই মধ্যে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজার দখল করে নিয়েছে শিবপুরের লটকন। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক গ্রামে লটকন চাষ হয়। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়-শ্রাবণ মাস এলেই এ অঞ্চলের কৃষকরা ‘লটকন’ গাছের পরিচর্যা ও ফল সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। উপজেলার এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে একটি লটকন গাছ পাওয়া যাবে না। আঙিনা থেকে শুরু করে প্রায় সব স্থানেই দেখা মেলে লটকন গাছের। একেকটি গাছে প্রচুর লটকনের ফলন হয়। গাছজুড়ে থাকে শুধু লটকন আর লটকন। তখন গাছের পাতা, ডাল কিছুই দেখা যায় না। স্থানীয়রা জানান, এই মৌসুমে দম ফেলার ফুরসত থাকে না কৃষক-কৃষাণির। এ অঞ্চলের লটকন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ২০-২৫টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এতে আয় হচ্ছে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। সরেজমিন দেখা যায়, লাখপুর, শিমুলিয়া, আলীনগর, পাড়াতলা, দুলালপুর, চণ্ডিবর্দী, ভিটিচিনাদী, বিলচিনাদী, দরগারবন্দ, কাজিরচর, হরণখোলা, মানিকদী, নন্দীগাঁও, বাহেরখোলা, ব্রজেরকান্দী, সাধারচর, মৈশাদী, তাতারকান্দী, শুকুন্দী, কালুয়ারকান্দা, সৈয়দেরখোলা, মিয়ারগাঁও, মাছিমপুর, সৈয়দনগর, পুটিয়া, সুনারুতলা, বেতাগিয়া, কামরাবপুব, সুজাতপুর, জাগড়র, ধুপিরটেক, মধ্যনগর, অষ্টানী মিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে লটকন চাষ হচ্ছে।   জমিতে চাষ করার পরও বাড়ির লোকজন অনেকটা শখ করে আঙিনায় লটকন গাছ রোপণ করেন। এসব গ্রাম থেকে প্রতিদিন পাইকাররা লটকন কিনে নেন। শিবপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর নরসিংদীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লটকন চাষ হয়েছে শিবপুরে। জেলার ৬২৫ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শিবপুর উপজেলায়ই চাষ হয়েছে ৪২৫ হেক্টরে। প্রতি মৌসুমে প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন লটকন উৎপাদন হয়, যার আনুমানিক দাম ২৪-২৫ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানান, লটকন গাছের কাণ্ডে ফলে। পুষ্টির সুসমতা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গাছের গোড়া থেকে কাণ্ড পর্যন্ত ঝোপায় ঝোপায় এত বেশি ফল আসে যে তখন গাছের কাণ্ড বা ডাল দেখা যায় না। লটকন পাকার ৫০-৬০ দিন আগে গাছপ্রতি ৫০ গ্রাম পটাশ পানির সঙ্গে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিলে ফলের মিষ্টতা বাড়ে। ১০ বছর বয়সী একটি লটকন গাছে গড়ে ২০০ কেজি লটকন ধরে। ফল হিসেবে লটকন যেমন খাদ্যমানে ভরপুর, তেমনি ক্যালসিয়াম ক্যারোটিন ও খনিজ লবণে সমৃদ্ধ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক লতাফত হোসেন জানান, এ অঞ্চলের লটকন শুধু দেশে নয়, বিদেশেও ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow