Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৮
এসপির স্ত্রী খুন
হত্যা রহস্য এখনো ঘূর্ণিপাকে
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
হত্যা রহস্য এখনো ঘূর্ণিপাকে

এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু খুনের রহস্যজট এখনো ঘূর্ণিপাকে। হত্যাকাণ্ডের ৩৮ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো হদিস নেই পুলিশি খাতায় ‘পলাতক’ কামরুল ইসলাম ওরফে আবু মুছা সিকদারের; যার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে খুনি ভাড়া করার অভিযোগ রয়েছে।

উদ্ঘাটিত হয়নি খুনের ‘ক্লু’। এমনকি জানা যায়নি, কোন ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর নির্দেশে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। এক মাসের বেশি অতিবাহিত হলেও এ খুনের কারণ খুঁজে বের ও নির্দেশদাতাকে গ্রেফতার করতে না পারাকে আইনের শাসনের অগ্রযাত্রার জন্য অশনিসংকেত মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানী ও আইনবিদরা।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, ‘এ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে যতটুকু জানানো হয়েছে, এর বাইরে আর কোনো অগ্রগতি নেই। খুনের নির্দেশদাতা মুছাকে গ্রেফতার করা গেলে অনেক রহস্যের জট খুলবে। তাই তাকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ’ মিতু খুনের ক্লু উদ্ঘাটন ও নির্দেশদাতার নাম প্রকাশ না হওয়াকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রার জন্য অশনিসংকেত মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানী ড. গাজী সালেহ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ পরিবারের একজন সদস্যের খুনের নির্দেশদাতা চিহ্নিত ও গ্রেফতার না হলে আইনের শাসনের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে। দেশে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে থাকবে। সব মিলিয়ে দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। ’ চট্টগ্রাম বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী পারভেজ তালুকদার বলেন, ‘পুলিশ এখনো খুনের ক্লু উদ্ঘাটন এবং মূল নির্দেশদাতার নাম জানতে পারেনি— এ কথা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছি না। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এর হোতাদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে দেশে আইনের শাসনের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে। ’ জানা যায়, মিতু খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার আনোয়ার হোসেন, ওয়াসিম ওরফে মোতালেব, শাহজাহান এবং এহতেশাম হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। আনোয়ার ও ওয়াসিম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে খুনের জন্য মুছাই তাদের ভাড়া করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। ‘পলাতক’ আবু মুছা সিকদার এসপি বাবুল আক্তারের ‘ঘনিষ্ঠ সোর্স’ হিসেবে পরিচিত। বাবুল আক্তারের ঘনিষ্ঠ সোর্স কেন মিতুকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন— এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি— ‘পলাতক’ মুছাকে গ্রেফতার করা গেলে খুলে যাবে হত্যার রহস্যজট। জানা যাবে কী কারণে মিতুকে খুন করা হয়েছে। তাই তাকে গ্রেফতারের জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রশাসনের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে মুছা সিকদারের স্ত্রী পান্না আকতার বলেন, ‘২২ জুলাই বন্দর থানার ওসি এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম এবং পরিদর্শক নেজাম উদ্দিন তার স্বামী মুছা ও তার দেবরকে ধরে নিয়ে গেছেন। পরে পুলিশ তার দেবরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করলেও মুছার আটকের বিষয়টি অস্বীকার করছে। এখন বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছি মুছাকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এ কথা আমি বিশ্বাস করি না। আমার স্বামীকে জীবিত ফেরত চাই। মুছা নাকি খুনের নির্দেশদাতা? মুছা কেন খুন করতে যাবে? তার কী স্বার্থ? মুছাকে আদালতে হাজির করা হোক। তাহলেই সবকিছু পরিষ্কার হবে। ’ সিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিতু খুনের কারণ ও নেপথ্যের নির্দেশদাতার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। মিতু খুনের কারণ ও নির্দেশদাতার নাম প্রকাশিত হলে ‘থলের বিড়াল’ বেরিয়ে আসবে। তাই কৌশল হিসেবে খুনের কারণ ও নির্দেশদাতার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রসঙ্গত, ৫ জুন নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

ভোলা-মনিরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর : পুলিশের দাবি মতে এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু খুনে ব্যবহার করা অস্ত্র সরবরাহকারী এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা ও তার সহযোগী মনির হোসেনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবদুল কাদের বাকলিয়া থানায় দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলায় তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকলিয়া থানার ওসি আবুল মনসুর বলেন, ‘অস্ত্র মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভোলা ও মনিরের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আজ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হবে। ’

মিতু খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ওয়াসিম ও আনোয়ার ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে আবু মুছাই তাদের বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে খুনের জন্য ভাড়া করেন বলে জানিয়েছেন। কিলিং মিশনে অংশ নেন আবু মুছা, ওয়াসিম, রাশেদ, নবী, কালু, শাহজাহান ও আনোয়ার। এ ছাড়া অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে এহতেশামুল হক ভোলার নাম জানায় তারা। এর মধ্যে নবী ও রাশেদ গত ৫ জুন রাতে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow