Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:১৫
মানবতাবিরোধী অপরাধ
এমপি হান্নানসহ আটজনের বিরুদ্ধে পাঁচ অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এম এ হান্নানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান, জ্যেষ্ঠ সদস্য সানাউল হক ও তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের মধ্যে এমপি হান্নান, তার ছেলে মো. রফিক সাজ্জাদ, ডা. খন্দকার গোলাম ছাব্বির আহমাদ, মিজানুর রহমান মিন্টু ও মো. হরমুজ আলী কারাগারে আছেন। এ ছাড়া পলাতক রয়েছেন ময়মনসিংহের বাসিন্দা মো. ফখরুজ্জামান, মো. আবদুস সাত্তার ও খন্দকার গোলাম রব্বানী। তদন্ত প্রতিবেদনে এই আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় অগ্নিসংযোগ, লুট, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা ও গুম—এই সাত ধরনের অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন হয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে যাবে। গত বছর ১৯ মে ত্রিশালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন মামলাটি করেন। ময়মনসিংহের ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক পরে এজাহারটি গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন। এম এ হান্নান ১৯৬০ সালের পর মুসলিম লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৫ সালে তিনি মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে কোতোয়ালি, ত্রিশাল আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭১ সালে টাঙ্গাইল থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পান। পরে তিনি দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হন। ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরোয়ানা জারি করলে ওই দিনই হান্নানকে গুলশানে তার বাড়ি থেকে এবং ছেলে রফিক সাজ্জাদকে ওই এলাকার একটি অফিস থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথম অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ২৩ ও ২৪ এপ্রিল ময়মনসিংহের গোলকীবাড়ী বাইলেনের প্রখ্যাত ভাস্কর আবদুর রশিদকে অপহরণ, নির্যাতনের পর জিপগাড়ির পেছনে রশি দিয়ে বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ গুম। দ্বিতীয় অভিযোগ, ২ আগস্ট ত্রিশাল থানার বৈলর হিন্দুপল্লী ও মুন্সিপাড়ায় অগ্নিসংযোগ, সেন্টুকে গুলি করে হত্যা ও দুজন হিন্দুকে গুলি করে আহত, শহীদ আ. রহমানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে হত্যার ঘোষণা। তৃতীয় অভিযোগ, ৭ থেকে ৯ আগস্টের মধ্যে বৈলরের আ. রহমান মেম্বারকে আটক, অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা ও লাশ গুম। চতুর্থ অভিযোগ, ১৭ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে খন্দকার আবদুল আলী রতনকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা ও লাশ গুম। পঞ্চম অভিযোগ, ২৩ এপ্রিল থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে মো. আবেদ হোসেন খানকে আটক, নির্যাতন ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর। ৭ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে কে এম খালিদ বাবুকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow