Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:১৮
অষ্টম কলাম
কবে দেশে ফিরতে পারবে সোনা
দীপক দেবনাথ, কলকাতা

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিজওয়াড়া থেকে উদ্ধার হওয়া ১৪ বছরের বাংলাদেশি যুবতী সোনাকে (নাম পরিবর্তিত) নিজের বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগী হলো রাজ্যটির নারী উন্নয়ন ও শিশু কল্যাণ (ডব্লিউ.ডি.সি.ডব্লিউ) মন্ত্রণালয়।

প্রায় ২০ মাস আগে বিজওয়াড়া রেল স্টেশন থেকে ওই বাংলাদেশি যুবতীকে উদ্ধার করে রেল পুলিশ। এরপরই তাকে রাখা হয় একটি এনজিওতে। গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সেখানেই আছে সোনা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আন্তর্জাতিক সেক্স র‍্যাকেটেরও সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

ডব্লিউ.ডি.সি.ডব্লিউ মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ‘ওই বাংলাদেশি যুবতীকে তার দেশে ফেরতের বিষয়ে একাধিক বার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল কিন্তু তা সম্ভব হয়নি এবং ভারতে একপ্রকার সে অবৈধভাবেই বাস করছে। তাই তাকে ফেরানোটা খুব জরুরি’।   ডব্লিউ.ডি.সি.ডব্লিউ মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর বাংলাদেশের কক্সবাজারের বাসিন্দা সোনাকে ২০১৪ সালে তার ভাতিজি জেসমিন কাজের লোভ দেখিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের বিজওয়াড়াতে নিয়ে আসে। এরপর জেসমিন যখন এক অপরিচিত ব্যক্তির কাছে সোনাকে বিক্রি করার কথা বলছিলেন তখনই তাদের হাত থেকে পালিয়ে গিয়ে পুলিশকে খবর দেয় সোনা।   সেসময় এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে যথেষ্ট আলোড়ন ফেলেছিল। এবং তাকে নিজের দেশে দ্রুত ফেরানোর দাবি জানিয়েছিল সোনা। বিজওয়াড়া থেকে উদ্ধার করে ইন্ট্রিগ্রেটেড চাইল্ড প্রোটেকশন স্কিম (আইসিপিএস) সোনাকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে পাঠায়। সেখান থেকে তার অবস্থান হয় একটি এনজিওতে। এরপর ডব্লিউ.ডি.সি.ডব্লিউ মন্ত্রণালয় থেকে  সোনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানানো হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ওই যুবতীর বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় ডব্লিউ.ডি.সি.ডব্লিউ মন্ত্রণালয় থেকে। পাশাপাশি কলকাতার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি ও স্থানীয় মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তারাই সোনাকে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে যাবতীয় উদ্যোগ নিতে শুরু করে। ডব্লিউ.ডি.সি.ডব্লিউ-এর জেলা প্রজেক্ট ডিরেক্টর কে.কৃষ্ণা কুমারী জানান ‘বাংলাদেশি যুবতীকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয় সম্পর্কিত ফাইলটি জেলা কালেক্টর ও পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমাদের সদস্যরা তার উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। তাছাড়া সোনাও তার বাবা-মায়ের কাছে ফেরত যেতে উত্সুক হয়ে উঠেছে। আমরা তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা আশা করছি এই সমস্যাটা খুব শিগগির সমাধান হয়ে যাবে’।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow