Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:১৮
পশ্চিমবঙ্গে বেকার যুবকদের দলে ভেড়াচ্ছে আইএস
কলকাতা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় নিজেদের জাল বিস্তারের লক্ষ্যে এবার বেকার মুসলিম যুবকদের দলে টানতে উঠেপড়ে লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। সীমান্ত লাগোয়া মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, মালদহ, উত্তর চব্বিশ পরগনা ও বর্ধমান জেলার বেকার অল্প বয়সী মুসলিম যুবকদের দলে ভেড়াতে কয়েক বছর আগে থেকেই কাজ শুরু করে জেএমবি।

২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণে দুই সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্যের নিহত হওয়ার পরই এ রাজ্যে সংগঠনটির কার্যক্রমের কথা স্পষ্ট হয়ে যায়। এবার জেএমবির দেখানো পথে হাঁটতে চলেছে আইএস। সম্প্রতি বর্ধমান থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক মহম্মদ মুসিরউদ্দিনকে জেরা করেই এ রাজ্যে আইএসের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে আসে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পশ্চিমবঙ্গের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম—বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এই তিন জেলাতেই আইএসের উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কলকাতা শহরের কয়েকটি জায়গায়ও আইএস তাদের জাল বিছিয়েছে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। দুই বছর আগে খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর মামলার তদন্ত সংস্থা এনআইএ আদালতে যে চার্জশিট জমা দিয়েছিল সেখানেও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জিহাদের নামে মুসলিম যুবকদের নিজেদের দলে টানতে জেএমবি কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। জেএমবির প্রধান টার্গেট সীমান্তপারের বেকার মুসলিম যুবকরা। এবার আইএসও তাদের ঘর গোছাতে সেদিকেই এগোচ্ছে। আরেক সন্দেহভাজন জঙ্গি মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ সম্পর্কে গোয়েন্দারা একরকম নিশ্চিত হয়েছেন। কারণ আইএসের হয়ে জাল বিস্তারের দায়িত্ব ছিল এই মুসার ওপর। ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘তাদের একেকজন হ্যান্ডলার আছে। তাদের দায়িত্বে ছিল একটি বা দুটি করে জেলা। সেখানকার শিক্ষিত অথচ বেকার মুসলিম যুবক-যুবতীদের, যাদের বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছর, তাদের টার্গেট করা হতো। ’

এই গোয়েন্দাকর্তা বলেন, ‘কয়েক মাস আগে আইএস সন্দেহে দুর্গাপুরের পলিটেকনিক শিক্ষার্থী আশিক আহমেদ ওরফে রাজাকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই আমরা জানতে পারি, মুসলিম যুবকদের টার্গেট করে প্রথম বৈঠকেই মগজ ধোলাই করা হতো, যাতে তারা এই সন্ত্রাসী সংগঠন সম্পর্কে অনুপ্রাণিত হয়। এরপর সেখান থেকে সীমান্তবর্তী কোনো জায়গায় ট্রেনিং ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow