Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪৫
এক বছরে বিও অ্যাকাউন্ট কমেছে প্রায় ৮০ হাজার
শেয়ারবাজারে টানা দরপতন
আলী রিয়াজ

দরপতনের কারণে শেয়ারবাজারে আগ্রহ হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে শেয়ারবাজার থেকে চলে যাচ্ছেন তারা। গত এক বছরে দেশের শেয়ারবাজারে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কমেছে ৭৭ হাজারের বেশি। এর আগে ২০১০ সালে স্মরণকালের ভয়াবহ ধসের পর বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী বাজার থেকে চলে যান। ওই সময় প্রায় ৬ লাখ বিনিয়োগকারী বাজার থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। গত বছর এই সময় ৩২ লাখ ১৮ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট ছিল। এখন তা নেছে সাড়ে ৩১ লাখের নিচে।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা দরপতনে প্রতিদিন লোকসান গুনছেন বিনিয়োগকারীরা। সেকেন্ডারি বাজারের সঙ্গে নতুন আসা আইপিওতেও লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। ফলে বিনিয়োগকারীরা কোনো আশা দেখতে না পাওয়ায় বাজার থেকে চলে যাচ্ছেন। জানতে চাইলে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। গত কয়েক বছরে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টরা তেমন কিছু করতে পারেননি। বিশেষ করে বৃহৎ কোম্পানি বাজার নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। যেসব কোম্পানি বাজারে আসছে, সেসব শেয়ার কিনে লোকসান দিতে হচ্ছে। ফলে বাজার শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারছে না। আস্থা না ফেরা ও নিয়মিত লোকসান দেওয়ার কারণে অনেকেই তাদের বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছেন। সিডিবিএল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ৩০ জুনের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট ফি সিডিবিএলে জমা দিতে হয়। এ বছর ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিনিয়োগকারীদের ২৫ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। এর পরই নবায়ন ফি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করা শুরু হয়। ২৫ জুনের আগে শেয়ারবাজারে মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ১৮ হাজার। বর্তমানে গতকাল পর্যন্ত তা ৩১ লাখ ৪০ হাজার ২৫৩টিতে নেমে এসেছে। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারী ২৯ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭১টি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ১ লাখ ৫৪ হাজার ১২২টি এবং বিভিন্ন কোম্পানি ১০ হাজার ৭৬০টি। সিডিবিএল জানিয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও অলিখিতভাবে আরও কিছুদিন সময় রয়েছে। ফলে অ্যাকাউন্ট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়বে। গত বছর এ প্রক্রিয়ায় তারা ১ লাখ ৭২ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট বাতিল করেছিল। তবে যেসব অ্যাকাউন্টে শেয়ার আছে, অথবা টাকা জমা আছে, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বেশ কিছু হাউস অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য সিকিউরিটি ডিপোজিট বা জামানত জমা দিয়েছে। ওই সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়নি। সিডিবিএলের তথ্য অনুসারে, সারা দেশের বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্টের মধ্যে ঢাকায় ২৪ লাখ এবং ঢাকার বাইরে ৭ লাখ। কিন্তু ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৫১৮টি সক্রিয় বিও পাওয়া গেছে। এগুলোতে শেয়ার আছে এবং এগুলো থেকে নিয়মিত লেনদেন হয়। এ ছাড়া ১১ লাখ ২৫ হাজার ২৩৩টি বিওতে কখনো কখনো শেয়ার থাকলেও গত বছর জানুয়ারি থেকে তা শূন্য হয়ে যায়। ৪ লাখ ৮৪ হাজার ১০১টি বিও অ্যাকাউন্টে কখনই শেয়ার ছিল না। এসব বিও অ্যাকাউন্ট সাধারণত আইপিওর জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। লটারিতে কোনো শেয়ার বরাদ্দ পায়নি বলে এসব অ্যাকাউন্টে কোনো শেয়ার নেই। অন্যদিকে ঢাকায় বিও অ্যাকাউন্টের জন্য মেশিন রিডেবল হিসাব ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ঢাকায় ২৪ লাখের মধ্যে বেশ কিছু অ্যাকাউন্টে মেশিন রিডেবল হিসাব নেই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow